দক্ষিণ এশিয়ার দিকে এগিয়ে আসছে মহা প্রলয়?

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

মাউন্ট এভারেস্ট আর হিমালয়ে যে বরফের রাজ্য আছে, সেটাকে বলা হয় পৃথিবীর তৃতীয় মেরু। ভয়ংকর কথা হলো, এই তৃতীয় মেরু এখন প্রচণ্ড তাপে গলছে। গবেষকরা বলছেন, শুধু বরফ গলাই নয়—হিমালয় এখন এমন এক বিপজ্জনক অবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন নিমেষেই ওলটপালট করে দিতে পারে। নতুন এক গবেষণা বলছে, এক দশক আগের তুলনায় বর্তমানে হিমালয়ের হিমবাহ ৬৫ শতাংশ দ্রুত গলছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন এমন হচ্ছে আর এতে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

হিমবাহ গলে যাওয়ার অদেখা বিপদ

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিক, আইসিমড এবং জিবি পন্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট। কিন্তু জানেন কি আসল ভয়ের জায়গাটা কোথায়? হিমালয়-কারাকোরাম অঞ্চলে আনুমানিক ৪০ হাজার হিমবাহ আছে। অথচ গবেষকরা এর মধ্য থেকে মাত্র ২১টি হিমবাহ বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন। অর্থাৎ, বিশাল এই হিমালয়ের সিংহভাগই আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

বরফ গলে পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি হচ্ছে বড় বড় হ্রদ, যেগুলো আটকে আছে ভঙ্গুর পাথর আর বরফের আলগা স্তূপ দিয়ে। শুধু তাই নয়, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে পাহাড়ের জমাট মাটি বা পারমাফ্রস্টও গলে নরম হয়ে যাচ্ছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে ধারাবাহিক বিপর্যয়। এর প্রমাণ আমরা অতীতেও দেখেছি। ২০২৩ সালে সিকিমে এবং ২০২১ সালে উত্তরাখণ্ডে হিমবাহের হ্রদ ফেটে আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। ভেসে গেছে বড় বড় সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

নদীগুলোর মারাত্মক ভবিষ্যৎ

আচ্ছা, হিমালয় গললে শুধু কি পাহাড়ের মানুষ বিপদে পড়বে? একদমই না। হিমালয় হলো আমাদের বিশাল এক প্রাকৃতিক ওয়াটার ট্যাপ। ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশের ভিত্তি আসে এই হিমালয়ের পানি থেকে। গম, ধান, চা চাষ থেকে শুরু করে বড় বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প—সবকিছুর চাকা ঘোরে এই পানির ওপর ভর করে। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় দুটি নদী পদ্মা ও যমুনার জন্মও কিন্তু হিমালয়ে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ লর্ড নিকোলাস স্টার্ন চমৎকার একটি কথা বলেছেন—আর্কটিক বা অ্যান্টার্কটিকার বরফ গললে মেরুভাল্লুকদের সমস্যা হয়, কিন্তু হিমালয় নামের এই মেরুর নিচে বাস করে শত শত কোটি কোটি মানুষ। আর আইসিমডের তথ্য অনুযায়ী, এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে হিমালয় থেকে গলে আসা পানির প্রবাহ তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। এর পর থেকেই বরফ কমে যাওয়ার কারণে নদীর পানি কমতে শুরু করবে। ভাবুন তো, তখন কোটি কোটি মানুষের খাবার পানি এবং কৃষিকাজের কী দশা হবে।

ভিলেন আসলে কে?

তবে কি সব শেষ? বিজ্ঞানীরা বলছেন, সব কারণ আমাদের হাতের বাইরে নয়। হিমালয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হিমবাহ গলে যাওয়ার জন্য দায়ী ব্ল্যাক কার্বন বা কালচে কার্বন কণা। ব্যাপারটা কী? আমাদের সমতল এলাকার ইটভাটা বা নানা কারখানা থেকে যে কালো ধোঁয়া ও কালি ওড়ে, তা বাতাসের মাধ্যমে গিয়ে জমা হয় হিমালয়ের সাদা বরফের ওপর। এই কালো কালি সূর্যের আলো বেশি শোষণ করে এবং বরফকে দ্রুত গলিয়ে ফেলে। সব থেকে আশার কথা হলো, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হলেও, এই ব্ল্যাক কার্বন দূষণ আমরা চাইলে খুব সহজেই কমাতে পারি।

প্রতিবেদনে ১০টি সুনির্দিষ্ট উপায়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ব্ল্যাক কার্বন বা ধোঁয়া কমানো, হিমবাহের পর্যবেক্ষণ এলাকা বাড়ানো, উন্নত আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং পাহাড়ি পর্যটনের ধরন বদলানো।

জানেন তো, শুধু ভারতীয় হিমালয় অঞ্চলেই বছরে প্রায় ৪০ কোটি পর্যটক যান। গবেষকদের পরামর্শ, শুধু পর্যটক বাড়ালেই হবে না, পাহাড়ের পরিবেশ বাঁচিয়ে এমন টেকসই ব্যবস্থা করতে হবে যেন স্থানীয় অর্থনীতিও বাঁচে। আইসিমডের মহাপরিচালক পেমা গ্যাৎসো একটি দারুণ কথা বলেছেন—‘এ ধরনের বিপদ কোনো জাতীয় সীমানা মানে না এবং কোনো একক দেশ একা এগুলোর মোকাবিলা করতে পারে না।’

হিমালয় বাঁচলে তবেই বাঁচবে দক্ষিণ এশিয়া। তাই সময় এসেছে রাজনৈতিক সীমানা পেরিয়ে একসঙ্গে কাজ করার, তথ্য আদান-প্রদান করার এবং আমাদের এই তৃতীয় মেরুকে রক্ষা করার।

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া যাদের মূল কাজ—সেই পুলিশই যখন নিজেদের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তখন প্রশ্ন ওঠে পুরো ব্যবস্থার ওপর। সম্প্রতি খুলনা নগরীতে ঘটে গেছে এমনই এক...
একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র... যেখানে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সেবা পাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিশুরা। হঠাৎ মধ্যরাতে সেখানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং বুলডোজার দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা। রাজধানীর...
একবার কল্পনা করুনতো— একদিকে আফ্রিকা মহাদেশ পুড়ছে তীব্র গরমে, অন্যদিকে ব্রাজিলে ডুবে যাচ্ছে পুরো এক শহর। আর এই দুটো ঘটনার পেছনে একটিই কারণ। বিজ্ঞানীরা যাকে বলছেন— ‘সুপার এল নিনো’। তারা এও বলছেন,...
একটি দেশ মাত্র কয়েক মাসে কিনে ফেলেছে এক হাজার টনেরও বেশি সোনা! যেন সোনার পাহাড় গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশটি কি তবে বদলে দিতে চাইছে বিশ্ব অর্থনীতির হিসাব–নিকাশ?
সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থী সর্বহারা দলের সদস্যদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২।...
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৫ জনে। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ...
ইরানে ফের হামলা চালালে এবার আরও দীর্ঘ ও ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে-এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর...
সুনামগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। প্রায় দফা দফায় দুই ঘণ্টা সংঘর্ষের পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ বুধবার সকালে ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ও...
লোডিং...
```html ```

এলাকার খবর