পটুয়াখালীর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর ঘাটে মিলল ১৮ কেজি ওজনের টুনা ফিস (লংগ ফিন টুনা)। বঙ্গোপসাগরে আ. সত্তার নামের এক মাঝি মাছটিকে মহিপুর মৎস্য কেন্দ্রে বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। ফয়সাল ফিস আড়ত থেকে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ৮০০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন ফিসভ্যালী নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কুয়াকাটা এলাকায় এই প্রথম এত বড় টুনা ফিসের দেখা মেলায় দেখতে ভিড় জমায় অনেকে।
গতকাল বুধবার রাতে কুয়াকাটা মেয়র মার্কেট ফিশভ্যালী নামের একটি দোকানে বিক্রির জন্য মাছটি উঠানো হয়।
ফিশভ্যালী কর্তৃপক্ষ জানায়, বড় মাছ বেশিরভাগ সময়ে তারা কিনে থাকে। তবে এর আগে ৫-৭ কেজি ওজনের টুনা বিভিন্ন সময়ে ক্রয়-বিক্রয় করলেও এত বড় টুনা এই এলাকায় আর কখনও তারা দেখেনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ৮০০ টাকা কেজি দরে ১৪ হাজার ৮০০ টাকায় মাছটি কিনেছেন।
ফিশভ্যালীর পরিচালক মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘বড় মাছ দেখে পছন্দ হয়েছে, তাই কিনেছি। তবে এখানে বিক্রি করতে পারি কিনা জানি না। আমাদের অনলাইনে এটা দেওয়া আছে আশা করি ভালো লাভে কাস্টমার পাব। আর কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের অনেকে ছবি তুলছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন, যদি কেউ পছন্দ করে কম ব্যবসা হলেও বিক্রি করে দিব।’
মনির ফিশফ্রাই মার্কেটের স্বত্বাধিকারী মো. মনির হোসেন বলেন, ‘কুয়াকাটা ফিশ ফ্রাই মার্কেটে মাসে এই টুনা মাছ শত শত পিচ আমরা বিক্রি করি, তবে এত বড় টুনা আমরা এই ১০-১৫ বছরে এলাকায় উঠতে দেখিনি। কখনো জেলেরাও পায়নি, আজকে মাছের খবর শুনে এখন দেখতে আসলাম। তবে মাছটি অনেক সুস্বাদু হবে, এর আগেই মাছটি আমরা ডিসকভারি চ্যানেলে দেখতাম।’
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, এটি বিশ্ব বাজারে অনেক দামি মাছ যা অ্যালবাকোর (Thunnus alalunga), যা লংফিন টুনা নামেও পরিচিত, স্কোমব্রিফর্মেসের টুনার একটি প্রজাতি। এটি নাতিশীতোষ্ণ এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলে সারা বিশ্বে এপিপেলাজিক এবং মেসোপেলাজিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। আটলান্টিক, প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরের পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এগুলো এই এলাকায় পাওয়া যায় না। অ্যালবাকোরের একটি লম্বাটে, ফুসিফর্ম শরীর রয়েছে যার একটি শঙ্কুযুক্ত থুতু, বড় চোখ এবং উল্লেখযোগ্যভাবে লম্বা পেক্টোরাল পাখনা রয়েছে। এর দেহটি একটি গভীর নীল পৃষ্ঠদেশীয় এবং রৌপ্য-সাদা ভেন্ট্রালি ছায়া গো। ব্যক্তি দৈর্ঘ্যে ১ দশমিক ৪ মিটার (৪ ফুট ৭ ইঞ্চি) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।



