ভোলার তজুমদ্দিনে চাঁদা না পেয়ে স্বামীকে আটকে রেখে মারপিট করে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার উপজেলা সদরে এ ঘটনা হয়। গতকাল সোমবার ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশ ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করে।
বাদীর বাড়ি উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নে। তার দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ঢাকায় থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রী থাকেন তজুমদ্দিনে। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শনিবার রাতে স্বামীকে তজুমদ্দিনে বাসায় ডেকে নেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এসময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাকে (স্বামী) পাওয়া মাত্র আটকে রেখে ৪ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা রাতভর তার ওপর নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে মোবাইলফোনে কল করে তার ঢাকায় থাকা প্রথম স্ত্রীকে টাকা নিয়ে এসে স্বামীকে ছাড়িয়ে নিতে বলে সন্ত্রাসীরা।
পরদিন রোববার সকালে প্রথম স্ত্রী তার স্বামীকে ছাড়িয়ে নিতে ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় তাকে স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রীকে ৪ লাখ টাকা দিতে বলে সন্ত্রাসীরা। টাকা দিতে অসম্মতি জানালে পুনরায় স্বামীকে পাইপ ও রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে স্বামীকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে প্রথম স্ত্রীকে ফরিদ উদ্দিন ও আলাউদ্দিন পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণ শেষে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা কাউকে না বলার শর্তে সেখান থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরে রোববার সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার হওয়া নারী দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এতে বাড়ির আশপাশের লোকেরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মুচিবাড়িরকোনা বাজারে এনে সবাইকে ঘটনাটি জানায়। ভুক্তভোগী নারী ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুরো ঘটনা জানালে তজুমদ্দিন থানা-পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
এ ব্যাপারে তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাব্বত খান জানান, নির্যাতিতা নারীর স্বামী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগে তারা জানিয়েছেন, আলাউদ্দিন ও ফরিদ ধর্ষণ করে এবং তার দ্বিদীয় স্ত্রী তাদের সহযোগিতা করে। এছাড়া মারধরের ঘটনায় আরও ৬-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটকের চেস্টা চলছে।



