একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ‘আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণকারী’ এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। গতকাল শনিবার রাতে মো. এহসান হিরণ নামের স্থানীয় ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঘোষেরহাট বাজার থেকে হিরণকে স্থানীয়দের হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নেয় পুলিশ। আজ রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মো. এহসান হিরণ ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘ঘোষেরহাট বাজারের বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিরণকে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আজ রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
স্থানীয়রা জানায়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তখন বালিপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা এহসান হিরণ এলাকায় প্রকাশ্যে আনন্দ উল্লাস করে মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন হিরণ। গতকাল রাতে ঘোষেরহাট বাজারে স্থানীয় লোকজন হিরণকে দেখতে পেয়ে আটক করে। প্রথমে তারা তাকে মিষ্টি খাওয়ায়, এরপর গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে ইন্দুরকানী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হিরণকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আলী হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়রা হিরণের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েই গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।’



