সমুদ্র উপকূলীয় উপজেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিভিন্ন এলাকা।
সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড়ের গতিতে কালবৈশাখী তাণ্ডব শুরু হয়। প্রায় ২৫ মিনিটের ঝড়ের বাতাসে তীব্রতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর শহর এলাকায় একাধিক টিনশেডের ঘর, কুঁড়েঘর ও আধাপাকা ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ধানখালীর দুইটি বসতঘর কলাপাড়া পৌর শহরের চারটি ও কুয়াকাটার অন্তত ১৪টি দোকান ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও উপজেলায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি।
অপরদিকে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছ উপরে ও ডাল ভেঙে পড়ে (গাছের গুড়ি) একাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনায় চাপা পড়ে আছে। এ উপজেলায় ঠিক কতটা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
কুয়াকাটার লেম্বুর বন এলাকার বাসিন্দা ফারুক জানান, রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে এখানে অন্তত ১৪টি দোকান পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও একাধিক দোকান ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধানখালির ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মামুন জানান, পাচজুনিয়া গ্রামের ছিদ্দিক মিয়ার ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
একই এলাকার সম্রাট নামের এক বাসিন্দা জানান, রাতের আচমকা ঝড়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জলিল হাওলাদারের বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এ সময় ঘরের মধ্যে শবে কদরের নামাজ রত অবস্থায় থাকা ঘরের সদস্যরা নিচে চাপা পড়েন। কিন্তু মালামালের ক্ষতি হলেও তারা অক্ষত আছেন।
কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম জানান, একাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। আংশিক ক্ষতি কতটা হয়েছে তা জানতে আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে অতিগ্রস্ত পরিবারে ঢেউটিন এবং সহায়তা প্রদান করা হবে।



