দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ ও বায়ুচাপের প্রভাবে দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৈরী এই আবহাওয়ার সঙ্গে লাগাতার বজ্রপাত উপকূলীয় কৃষকদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে অনেক খামারি নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনেক পশু আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মোটাতাজাকরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে লাভের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে খামারিদের।
মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ২৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লালুয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. জহিরুল ইসলাম ও মো. আক্কাস, মহিপুর সদর ইউনিয়নের জনপতি, লতিফপুর গ্রামের শাহীন খান ও আলতাফ গাজী, ইউসুফপুরের মকবুল খান, মনোহরপুরের রিপন চন্দ্র শীল এবং মহিপুর গ্রামের আনিস ঘরামির গবাদিপশু বজ্রপাতে মারা গেছে।
এ ছাড়া ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামের মাইনুদ্দিন হাওলাদার, তারিকাটা গ্রামের মো. দেলোয়ার হাওলাদার ও সোবহান, বালিয়াতলী ইউনিয়নের মো. বশির, দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের ইব্রাহিম, বালিয়াতলী গ্রামের মো. হাবিবুল্লাহ ও মো. জলিল, রিফিউজি পাড়ার মো. ফেরদাউস ও শাহিদা বেগম এবং খাপড়াভাঙ্গা গ্রামের আব্বাস মৃধার গবাদিপশুও মারা গেছে।
ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের আনেছ খান, নিজাম স্বর্ণমত, এনায়েত তালুকদার ও ছিদ্দিক হাওলাদার এবং কোমরপুর গ্রামের নূর হোসেনসহ মোট ২৩ জন কৃষকের অন্তত ২৯টি গরু বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। নিহত গবাদিপশুর মধ্যে অনেক বলদ ঈদের হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
বালিয়াতলী ইউনিয়নের রিফিউজি পাড়ার কৃষক ফেরদৌস দফাদার বলেন, ‘হঠাৎ ঝড় শুরু হওয়ার পরপরই লাগাতার বজ্রপাত হতে থাকে। এ সময় বাড়ির সামনে মাঠে ঘাস খাচ্ছিল আমার একটি শাহীওয়াল জাতের গাভী ও দুমাসের বাছুর। দুদিন আগেও বাচ্চাসহ গাভীটির দাম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা উঠেছিল। জীবনে এত বজ্রপাত আগে দেখিনি।’
ধুলাসার ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেলোয়ার হাওলাদার জানান, বজ্রপাতে তার দুটি গাভিন গরুর মৃত্যু হয়েছে। বড় জাতের গরু দুটি বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা ছিল। এতে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ বলেন, ‘এ পর্যন্ত ২৩ জন কৃষকের তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের ২৯টি গরু মাঠ ও খামারে বজ্রপাতে মারা গেছে। সময়ের সঙ্গে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অনেক ক্ষতির খবর আসছে, তবে এখনো সব নাম তালিকাভুক্ত হয়নি।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন দেওয়া হবে। সঠিকভাবে তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে।’



