বরিশালে বারবার ভবন নির্মাণ বিধিমালা বদলানোয় বাড়ির মালিকদের ভোগান্তি বাড়ছে। এখন নকশা অনুমোদনের জন্য মালিকদের নিজে সিটি করপোরেশনে যেতে হবে—এ ঘোষণায় জটিলতা আরও বেড়েছে। সিটি করপোরেশন বলছে, মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতেই এই সিদ্ধান্ত।
গত কয়েক বছর ধরে কোন বিধিমালা অনুযায়ী বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ভবন নির্মাণ হবে, তা নিয়ে জটিলতায় আটকে আছে প্রায় ৬০০ নকশা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ২০২০ সালে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন বিধিমালা চালু করেছিলো তৎকালীন সিটি মেয়র। তবে পরের মেয়র দায়িত্ব বুঝে নিয়েই ফিরে যান পুরোনো বিধিমালাতে। এসবের মধ্যেই ভোগান্তি বেড়েছে সেবাগ্রহীতাদের।
অ্যাসোসিয়েশন অব বিল্ডিং কনসালটেন্টের সম্পাদক রিয়াদুল আহসান বলেন, ‘মেয়র একজন আসে আর নতুন নিয়ম চালু করে। আবার আরেকজন এসে আবার আরেক নিয়ম করে। এসব কারণে আমাদের প্ল্যান বাস্তবায়ন দেরি হয়ে যাচ্ছে।’
বাড়ির মালিকরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে নকশা আটকে থাকায় হোল্ডিং ও পানির ট্যাক্স গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় বেড়েছে আর্থিক ক্ষতিও।
সিটি কর্পোরেশনের দাবি, প্ল্যান ডিজাইনাররা নকশার পাশাপাশি ভবনের অনুমোদনও ব্যবস্থা করে দেবেন, এমন ধারণা থেকেই গ্রাহক ভোগান্তি শুরু। নতুন প্রশাসক তাই পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি সিটি কর্পোরেশনে আসা বাধ্যতামূলক করেছেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্থপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্ল্যান ডিজাইনারদের কাছে তারা অবশ্যই যাবেন, তবে তা টেকনিক্যাল সাপোর্টের জন্য। কনসালটেন্সি ফার্মের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে তারা যেন গভর্মেন্ট ফির দায়িত্ব না নেয়।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সিইও রেজাউল বারী বলেন, ‘যাদের সমস্যা আছে তাদের আমরা পরামর্শ দেব—আমাদের আর্কিটেক্ট আছে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন। তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে যেন না যায়।’
৬৮ বর্গ কিলোমিটার বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার ৩০টি ওয়ার্ডে ভবনের সংখ্যা প্রায় ৭৬ হাজার।



