ঢাকায় জলাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সমস্যা সমাধানে আরও সময় চাইলেন তিনি।
বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নগরবাসীকে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে।
এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
একশো মিলিমিটার বৃষ্টিতেই ডুবে যায় রাজধানী। সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। এমন পরিস্থিতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নাগরিক দায়িত্ব ও কাজে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন বক্তারা।
সেমিনারে রাজউক প্রতিনধি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা আর নাড়িভুড়ি এনে হাতিরঝিলের লেকে ফেলি। মানুষ সচেতন না হলে তো শুধু পুলিশ–আনসার দিয়ে এটা ঠেকানো যাবে না।
ঢাকা ওয়াসার প্রতিনিধি বলেন, বনানী, বারিধারা, বাড্ডার পশ্চিমাংশ ও চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার বর্জ্যটা আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা দাসেরকান্দি শোধনাগারে আধুনিক উপায়ে নিয়ে যাব।
জলাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আমি আমার মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরবাসীর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা আমাদের একটু সহযোগিতা করবেন। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা একটা নগরায়নকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে গেলে আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে।
নাগরিকদের অধৈর্য্য না হওয়ার আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। আর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন নগর সরকার।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যদি সিটি কর্পোরেশনগুলোকে একটা নগর সরকারে পরিণত করতে না পারি– সিটি কর্পোরেশনই নিয়ন্ত্রণ করবে অন্যান্য সংস্থাগুলোকে যাদের ঢাকা শহরের জন্য প্রয়োজন। তা না হলে এই সমস্যার সমাধান সহজে হবে না।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পৃথিবীর উন্নত যত দেশ আছে, সব জায়গায় জলাবদ্ধতা হয়। আমাদের তুলনায় তাদের পানিটা একটু তাড়াতাড়ি নেমে যায়। তাদের পরিকল্পনামাফিক ব্যবস্থাপনা আছে। সুয়ারেজের লাইনটা যেভাবে করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থাও সেভাবে করা। আমাদের হয়তো সেভাবে না করার কারণে তাদের ২ ঘণ্টা লাগলে, আমাদের ৫ ঘণ্টা লাগে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার খালগুলো পুনঃখননে জোর দেন বক্তারা।



