দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ভোট কেন্দ্র। পাহাড়ি পথ হওয়ায় যেতে হয় পায়ে হেঁটে। ফলে খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোট দিতে আগ্রহ কম ভোটারদের। দুর্গম এলাকায় ভোটার কম থাকার কারণে কেন্দ্র বাড়ানো সম্ভব নয়, বলছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা।
নয় উপজেলা ও তিন পৌরসভা নিয়ে খাগড়াছড়িতে একটি মাত্র সংসদীয় আসন। ভৌগোলিক কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা জটিল।
স্থানীয় নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র বেশি থাকলেও সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র মাত্র ১৯৬টি। কোনো কোনো গ্রাম থেকে ভোট কেন্দ্র ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে। পাহাড়ি পথ হওয়ায় ভোটারদের পায়ে হেঁটে যেতে সময় লাগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, অনেক গ্রাম আছে যেগুলো থেকে ভোটকেন্দ্রে যেতে অনেক সময় লাগে। যোগাযোগ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে অনেকে ভোট কেন্দ্রে যেতে চায় না । অনেক কষ্ট হয়, হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা পাহাড়ি জনগোষ্ঠী জুম চাষি। দূরের গ্রাম থেকে তারা ভোটকেন্দ্রে আসতে চায় না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র কম। দূর-দুরান্তের লোকেরা ভোট দিতে চায় না। ভোট কেন্দ্র বাড়াতে পারলে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারত।
ভোটারদের দুর্ভোগ লাঘব ও উপস্থিতি বাড়াতে কেন্দ্র বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে জনপ্রতিনিধি ও সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা।
দীঘিনালা মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম লাকি বলেন, আমার ইউনিয়নের আয়তন ২২৭ বর্গকিলোমিটার। ভোটকেন্দ্র মাত্র ১১টি। দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ভোট কেন্দ্র। খাদুর্গম এলাকার কারণে অনেক ভোটার কেন্দ্রে আসতে চায় না। কেন্দ্র বাড়ালে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে। দুর্গমতার কারণে অনেক ভোটার কেন্দ্রে আসতে চায় না।
জাপা প্রার্থী মিথিলা রোজায়া জানান, খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম। তার ওপর এখানে ভোটকেন্দ্র কম। যে কারণে দুর্গম এলাকার ভোটারদের উপস্থিতি কম। আমার দাবি ভোট কেন্দ্র বাড়ানো হোক।
এদিকে দুর্গম এলাকায় ভোটার সংখ্যা কম হওয়ায় কেন্দ্র বাড়ানো সম্ভব হয় না বলছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম।
জেলার মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৪১৯ যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার দুর্গম এলাকার।



