ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের আকাশি হাওর থেকে নিজেদের গরু আনতে গিয়ে স্থানীয় একটি খালের স্রোতে ভেসে গেছে দুই বোন। শনিবার সকালে পাশের তিতাস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মরদেহ।
ধারণা করা হচ্ছে, অতিবৃষ্টির পানি প্রবল বেগে নামার সময় অসাবধানতাবশত খালে পড়ে যায় দুই বোন। স্রোতের তোড়ে ভেসে যায় তারা। মৃত দুই শিশু হলো– গোকর্ণ গ্রামের মিনার আলীর মেয়ে মারিয়া (১১) ও সামিয়া (৮)।
পুলিশ, নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মারিয়া ও সামিয়া আকাশি হাওরের মাঠে গরু আনতে যায়। ফেরার পথে খালের পাশ দিয়ে হেঁটে আসার সময় হঠাৎ তীব্র স্রোতে তারা ভেসে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে রাতভর খোঁজাখুঁজি করে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়।
এদিকে, আজ সকাল ৬টার দিকে গোকর্ণ বেরিবাঁধ এলাকায় তিতাস নদীতে মারিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। কিছুক্ষণ পর সামিয়ার মরদেহ একটি মাছ ধরার জালে আটকে থাকতে দেখা যায়।
মৃত শিশুদের চাচা দুলাল আহমেদ বলেন, ‘সারারাত খুঁজেছি, কেউ ঘুমাইনি। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ সবাই চেষ্টা করেছে। সকালে নদীতে ভেসে উঠে মারিয়ার লাশ, সামিয়ারটা জালে আটকে ছিল। সব শেষ হয়ে গেল, আমাদের কলিজার টুকরোগুলো আর রইল না।’
স্থানীয় কৃষক জাহিদ মিয়া বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যার আগে শুনি তারা খালের পাশে ছিল। হঠাৎ পানির চাপ বাড়ায় হয়তো স্রোতে ভেসে গেছে। স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে কিছু করার সুযোগ পাইনি। মিনার আলী কিছুদিন হলো বিদেশে গেছেন। তার চার সন্তানের মধ্যে এই দুজনই বড় ছিল।’
গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহীন বলেন, ‘এটা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। বর্ষাকালে নদী বা খালের আশপাশে চলাচলে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে। পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি এসিল্যান্ডসহ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। অনেক চেষ্টা করেও তখন তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে এলাকায় মাইকিং করে নিখোঁজ সংবাদ জানানো হয়। সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আমরা পরিবারটির পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’



