ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কুট্টাপাড়ায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলসহ ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে এক জুলাই শহীদের বাবা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সরাইল-নাসিরনগর–লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের কুন্ডা ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা হয়।
শুক্রবার সকালে সরাইল থানা থেকে নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা মরদেহ গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম ছোঁয়াব মিয়া (৫৫)। তিনি নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুরের বাসিন্দা। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ মোনায়েল আহমেদ ইমরানের বাবা।
স্থানীয় বিএনপি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছোঁয়াব মিয়া জুলাই শহীদের বাবা হিসেবে তারেক রহমানের জনসভায় নিমন্ত্রিত ছিলেন। জনসভায় যোগ দিতে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে কুন্ডা ব্রিজের কাছে তার মোটরসাইকেল নাসিরনগরগামী সার বোঝাই একটি ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ছোঁয়াব মিয়া। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সরাইল থানায় নিয়ে যায়।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূইয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। নাসিরনগর থেকে ট্রাক এবং এর চালকসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।’
ছোঁয়াব মিয়া জুলাই শহীদের বাবা হিসেবে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জনসভায় যাচ্ছিলেন। এ তথ্য নিশ্চিত করে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আজম চৌধুরী ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘তার নিহতের খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ আমরা জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ সমাবেশস্থল থেকে সরাইল থানাই ছুটে গিয়েছিলাম। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই আজ মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সরাইল থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান আজ সকালে ইনডিপেনডেন্টকে জানান, বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতে সরাইলের সমাবেশস্থলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অবহিত করা হয়েছে। দলীয় প্রধান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি ও নাসিরনগর উপজেলা বিএনপিকে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এম এ হান্নান বলেন, ‘জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ আমরা আজ সকালে সরাইল থানা থেকে নিহত ছোঁয়াব মিয়ার লাশ গ্রহণ করেছি। আমি লাশ নিয়ে নিহতের গ্রামের বাড়ি রামপুরে যাচ্ছি। নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন তুহিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজমসহ নেতৃবৃন্দ আমার সাথে রয়েছেন। আগামীকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল নিহতের কবর জিয়ারত করতে আসবেন।’
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ সাহেবপাড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ছোঁয়াব মিয়ার ছেলে মোনায়েল আহমেদ (১৫) নিহত হয়। সে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার জিরুন্ডা মানপুর তোফাইলিয়া সিনিয়র মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। লাখাইয়ে নানির বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত সে।
জুলাই আন্দোলনের সময় ছোঁয়াব মিয়া পরিবার নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ সাহেবপাড়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। ছোঁয়াব ঢাকার বেগমবাজার ও চকবাজারে ফেরি করে পুরোনো কাপড়ের বিনিময়ে থালা-বাসন-কলসসহ গৃহস্থালির মালামাল বিক্রি করতেন। ঘটনার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে মাদরাসা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল মোনায়েল।



