অবশেষে প্রশস্ত হচ্ছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক। আজ রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাঙ্গামাটি সড়ক সার্কেলের আওতাধীন রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের অপ্রশস্ত এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণের মাধ্যমে বিরাজমান সড়ক নেটওয়ার্কের মান উন্নয়ন তথা উন্নত, নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয় ।
রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধার্য করা হয়েছে ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন,‘রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি সড়কে রাঙ্গামাটি থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত ৩৮ দশমিক৩৫ কিলোমিটার সড়কাংশ আনুমানিক ১৯৮৬ সালে তৎকালীন চেঙ্গী ভ্যালি প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত হয়। পরবর্তীতে মহালছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ২৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়কাংশ খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগ জিওবি খাত থেকে নির্মাণ করে। সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৬১.৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৪ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার সড়ক ৫ দশমিক ৫০ মিটার প্রশস্ত এবং অবশিষ্ট ৪৬ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার সড়কের প্রস্থ ৩.৭ মিটার।’
সড়ক প্রশস্ত করার বিষয়টি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। এতে করে কমবে সড়ক দুর্ঘটনা। এছাড়া স্থানীয় জনগণের উৎপাদিত পণ্য স্বল্প সময়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সহজেই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।'
উল্লেখ্য, ২০২৯ সালে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা রয়েছে।



