ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ইউনিয়নের একাংশেই ৬১টি মাদক বিক্রির স্পট শনাক্ত করা হয়েছে। এই স্পটগুলোতে যেকোনো সময় চাইলেই পাওয়া যায় ইয়াবা। আজ রোববার দুপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মাদক সম্পর্কিত আলোচনায় এ তথ্য দেন জেলার পুলিশ সুপার শাহ মো: আবদুর রউফ।
তিনি বলেন, তালিকা করতে গিয়ে বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের একটি অংশে ৬১টি মাদকস্পট পাওয়া গেছে, যেখানে চাইলে আপনি ইয়াবা পাবেন। বিজয়নগরের ভয়াবহ অবস্থা, কি অবস্থা তা কল্পনাও করতে পারবেন না।
জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় পুলিশ সুপার আরও জানান, এবার এলাকা, গ্রাম এবং পাড়াভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো: আবু সাঈদ। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এহসান মুরাদ।
সভায় জেলা জামায়াতের আমীর মোবারক হোসাইন আকন্দ বলেন, যারা মাদক সম্রাট তাদের এ্যারেষ্ট করার পর জামিন যাতে না পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।
জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন বলেন, আমরা সবাই জানি কারা মাদক ব্যবসায়ী, চোরাচালানী। কথা হলো বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে। আমাদের বিরুদ্ধে একশো-দেড়শো মামলা দেওয়া হয়েছে। যারা মাদক ব্যবসায়ী-ডিলার তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জামিন হলে সাথে সাথে নতুন করে মামলা দিতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক প্রসিকিউটর ফখর উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, প্রশাসন, নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে কারা মাদক ব্যবসায় জড়িত তা চিহ্নিত করে প্রতিরোধ করতে হবে।
নাসিরনগর এলাকার সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, নাসিরনগর তুলনামূলকভাবে ভালো ছিলো। এখন এদিক দিয়ে মাদক পাচারের রাস্তা বানাইছে। ৩-৪ দিন আগে ফেসবুকে দেখলাম গাঁজার বিরাট এক চালান ধরা পড়েছে। মাদক প্রতিরোধে ইউনিয়নগুলোতে সভা করতে হবে। নাসিরনগরের ধরমন্ডলে মাদকের ব্যবহার বেশী। আমরা সেখানে প্রথম সভা করতে পারি।
সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মো: আবুসাঈদ বলেন, মাদকের ব্যাপারে আমরা পরিকল্পনা করছি। আমরা কঠোর হব।
এদিকে সভায় পেশ করা অপরাধ বিবরনীতে দেখা যায়, মার্চ মাসে জেলায় কোনো চাঁদাবাজি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ১টি। আর চুরির ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। ওই মাসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ১৯ জন।



