ফেনীতে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গ্রামের মোড়লদের বাধার মুখে প্রশাসনের ফিরে আসার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা এলাকার খালুর দোকান সংলগ্ন আয়ধন ভূঞা বাড়িতে এ ঘটনা হয়।
আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, ফেনীর যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের বিচারক দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-০৪/২০২৫ এর রায়ে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা এলাকার খালুর দোকান সংলগ্ন আয়ধন ভূঞা বাড়ির মালিকানাধীন নালিশী জমিতে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্য করে নির্মিত রাস্তা ৩০ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবাদীপক্ষ রাস্তা অপসারণে ব্যর্থ হলে বাদীপক্ষ আদালতের মাধ্যমে তা অপসারণ করতে পারবেন।
মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সকল যন্ত্রপাতি, সরঞ্জামাদি, স্কেভেটর ও লোকবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গ্রামের মোড়লদের বাধার কারণে তারা কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
মামলার বাদী আলাউদ্দিন বিলাস বলেন, "খরিদা সম্পত্তিতে জোরপূর্বক অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ করায় আমি আদালতের আশ্রয় নিই। আদালত সব নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে আগের অবস্থায় জমি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু রায় বাস্তবায়নে আদালতের লোকবল ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধার মুখে ফিরে আসেন। আমি এর সুষ্ঠু প্রতিকার চাই। আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হবে।"
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় মোড়ল কামাল উদ্দিন ওরফে লাল কামাল বলেন, "এটি দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ। জনগণের স্বার্থে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য ১০ দিনের সময় নেওয়া হয়েছে। সমাধান না হলে আইন অনুযায়ী আদালতের রায় কার্যকর হবে।"
অন্যের সম্পত্তিতে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, "সিএস বা বিএস রেকর্ড না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চলাচলের কারণে এটি রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।" তবে রাস্তা নির্মাণে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
আদালতের রায় বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেনী প্রথম জজ আদালতের নাজির আলতাফ হোসেন বলেন, "আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বাধার মুখে আমাদের ফিরে আসতে হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।"
পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, "আমরা আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ১০ দিনের সময় নেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।"
আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলাটি দায়েরের পর নালিশী জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে বিবাদীপক্ষ সেখানে রাস্তা নির্মাণ করে। পরবর্তীতে আদালত কমিশনের প্রতিবেদন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর তদন্ত প্রতিবেদন, স্থিরচিত্র, ভিডিওচিত্র এবং উচ্চ আদালতের নজির পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, নালিশী জমিতে মামলার আগে কোনো প্রতিষ্ঠিত রাস্তা ছিল না এবং আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ লঙ্ঘন করেই রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।



