নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত ছয় মাসে জেলায় পানিতে ডুবে মারা গেছে ৬৫ শিশু। শিশুদের অকাল মৃত্যুরোধে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
বর্ষা এলেই খাল, নদী-নালা, পুকুর পানিতে পূর্ণ হয়ে যায় উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীর। অভিভাবদের অগোচরে বাড়ির পাশে এসব জলাশয়ে পড়ে প্রায়ই প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। পারিবারিক সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সাঁতার শেখানোর দাবি অভিভাবক ও শিক্ষকদের।
সাঁতার শেখা প্রসঙ্গে স্থানীয় এক কিশোর জানায়, কার কাছে শিখব, কীভাবে শিখব, আমি সেটা জানি না।
এদিকে, সাঁতার শেখাতে আগ্রহী স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, শিশুরা পানির কাছে যায়, গিয়ে পড়ে যায়। একটা দুর্ঘটনায় ঘটে যায়। এজন্য আমার বাচ্চাকে আমি সাঁতার শেখানোর জন্য অনেক আগ্রহী।
মহব্বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল রাণী রায় বলেন, 'সবাইকে আমি অনুরোধ করি, ছোটবেলা থেকে তারা যেন সাঁতার শিক্ষা নেয়। একটা বাচ্চা যখন সাঁতার শেখে সে শুধু তার জীবনকে রক্ষা করে তা না, পাশাপাশি সে কিন্তু তার শারীরিক শিক্ষার ব্যাপারেও অনেকখানি উন্নত থাকে।'
শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে স্থানীয়ভাবেই শিশুযত্নকেন্দ্র স্থাপন ও বাড়ির পাশের পুকুরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সিভিল সার্জন। এ প্রসঙ্গে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, 'বাচ্চাদেরকে রক্ষা করার জন্য যে ব্যবস্থাগুলো নেওয়া দরকার, আমাদের বিশেষজ্ঞরাও আছেন, উনারা মতামত দিক, এরপর একটা পরিকল্পনা তৈরি করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি যতদূর জানি, এ বিষয়ে কাজ চলছে।'
চলতি বছরের ৬ মাসে জেলায় সবচেয়ে বেশি শিশু মারা গেছে হাতিয়ায় ৩৬ জন। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। এছাড়া, পানিতে ডুবে যাওয়া ২১৫ জন শিশুকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।



