নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে ও মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতির সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের এ সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলো– নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হাসান।
জানা যায়, সোমবার রাত ২টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের দুপক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়।
একপর্যায়ে ভাষাশহীদ আবদুস সালাম হলে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে সালাম হলের সামনে থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী নেতাকর্মীরা একজোটে সিনিয়র সহ–সভাপতি সাব্বিরের অনুসারীদের ধাওয়া করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। সেখানে উভয়পক্ষ সংঘর্ষ ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক মানবজমিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত বলেন, ‘সিট নিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় বাগবিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা অন্যায়ভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়।’
বিশ্ববিদ্যায়ল শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসান বলেন, ‘আমি ওই রুমে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম। একটা সিট এক্সচেঞ্জ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়, পরে তা সমাধান হলে সবাই চলে যায়। কিন্তু পরে তারা পরিকল্পিতভাবে এসে ছাত্রদলের দায়িত্বশীল এক নেতার ওপর এমন হামলা করে, যা সুস্পষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
বিশ্ববিদ্যায়ল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। তবে যতটা জানি এটা সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যকার ঝামেলা। কোনো পলিটিক্যাল বিষয় নয়।’
এদিকে, আজ বিকেলে নোবিপ্রবি সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সোমবার রাতে এবং মঙ্গলবার সংঘটিত ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে নোবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক, প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমানকে সদস্য সচিব এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে সদস্য করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড.গোলাম রব্বানী বলেন, এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।



