নাম আছিয়া বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তাঁর জন্ম ১৯২০ সালে। বর্তমানে তাঁর বয়স ১০৪ বছর। শত বছরের বেশি বয়সী এই বৃদ্ধা ভোট দিয়েছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
আছিয়া বেগমের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলুকাঠি গ্রামে। রোববার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তিনি ভোট দিতে যান দুপুর ১২টার দিকে। নড়িয়া উপজেলার ৪৯নং কলুকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাঁকে ভোট দিতে দেখা যায়। বয়সের ভারে শরীরের চামড়া ঝুলে গেছে। কথা বলতে গেলে অনেকটা অস্পষ্ট থেকে যায়। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা।
বৃদ্ধ বয়সে এত কষ্ট করে ভোট দিতে আসার ব্যাখ্যা দিলেন ১০৪ বয়সী এই বৃদ্ধা। আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমার বয়স ১০৪ বছর। আজ আমি ভোট দিতে আসছি। বয়স হয়েছে, আর কতদিন বাঁচবো জানি না। এটাই মনে হয় আমার শেষ ভোট। আমার নয় ছেলেমেয়ে। আজ এক ছেলের হাত ধরেই ভোটকেন্দ্রে এসেছি।’
কলুকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দেবাশীষ বল্লব বলেন, ‘বয়স্ক ও অসুস্থদের আনসার ও পুলিশ সদস্যরা ভোট দিতে সহযোগিতা করেছেন। কেন্দ্রটিতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছে। এ কেন্দ্রটিতে ভোটার সংখ্যা এক হাজার ৩১ জন।’
এদিকে, হুইলচেয়ারে বসে এসে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিলেন ৬০ বছরের প্যারালাইজড জোবেদা বেগম। তিনি নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রেমতলা গ্রামের মজিদ খালাসীর স্ত্রী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ নড়িয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বিহারীলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর ছেলে নজরুল ইসলামের সহায়তায় হুইল চেয়ারে বসে ভোট দিতে আসেন তিনি।
জোবেদা বেগমের ছেলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। মাঝেমধ্যে আমরা সময় পেলে তাঁকে হুইলচেয়ারে করে বাইরে বের করি। ভোটের কথা শুনে আমার মা ভোট দেবেন বলে বায়না ধরেন। তাই তাঁকে হুইল চেয়ার করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসি।’
অসুস্থ জোবেদা বেগম বলেন, ‘আমি প্রায় ৭ বছর ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকি। বাসায় শুয়ে থেকে জানতে পারি দেশে নির্বাচন আসছে। তখন থেকেই আমার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা জাগে। তাই আমার ছেলের সহায়তায় হুইলচেয়ার করে ভোট দিতে এসেছি। তবে ভোট দিতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।’
বিহারীলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ‘বয়স্ক ও অসুস্থদের আনসার ও পুলিশ সদস্যরা ভোট দিতে সহযোগিতা করেছেন। কেন্দ্রটিতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। কোন বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। এ কেন্দ্রটিতে ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ৪৭৫ জন।’
জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘সকাল ৮ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটকেন্দ্রে বয়স্ক ও অসুস্থ লোকজনকে সহায়তা করা হয়েছে। শরীয়তপুর তিন সংসদীয় আসনে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৩৭৮টি। আর ভোটার ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৩০জন।’



