নরসিংদীতে নৌকার সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের বাখরনগরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- একই ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে আব্দুল্লাহ মিয়া (২৮) এবং একই গ্রামের আব্দুল আজীজের ছেলে ইউসুফ মিয়া (৩২)। তাঁদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁরা স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ উল্লার কর্মী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের সমর্থক।
আহত ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্রপ্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের সমর্থক ছিলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাখরনগর বাজারে মুরগী কিনতে গিয়েছিলাম। এসময় নৌকা প্রতীকের সমর্থক যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান ওরফে হাবির নেতৃত্বে দেলোয়ার ওরফে কালা, লোকমান, হাসেন, অদুদ মিয়া ও জাকির হোসেন হামলা চালায়। পিঠে, মাথায়, কানেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে আহত করে। আমার সঙ্গে থাকা ইউসুফের মাথায়ও আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপালে ভর্তি করেন।’
আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ উল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুলের সমর্থনে এলাকায় প্রচার চালিয়েছিলাম। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ধারাবাহিকভাবে মারধর করে এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে। নৌকার সমর্থক ও ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থকরা এসব হামলা করছে। নির্বাচনের পর ৪টি গ্রামে ১০ জন কর্মীকে মারধর করে এলাকা থেকে বের করে দিয়েছে। আগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং আজকের ঘটনায়ও লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু বলেন, ‘মুরাদনগর গ্রাম থেকে কিছু ঈগল সমর্থকের লোক বাখরনগর বাজারে এসে নৌকা সমর্থকদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তখন বাজারের মানুষ তাঁদের ধাওয়া করে।’
নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, ‘ঈগল সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনার খবর এখনও পর্যন্ত আমি জানি না। ঘটনাটি জানার চেষ্টা করছি।’
উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু ও বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ উল্লাহ সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে থেমে থেমে প্রায়ই দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে।’



