বেইলি রোডের গ্রিন কোটি কটেজে আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক কেটলির শর্ট সার্কিট থেকে বলে জানানো হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, শর্ট সার্কিটের স্ফুলিঙ্গ গ্যাস সিলিন্ডারের সংস্পর্শে এলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্ত কমিটির আক্ষেপ, ভবনে আরও একটা সিঁড়ি থাকলে এতো মানুষের মৃত্যু হতো না। রাজউকের নকশা বাস্তবায়নের জোর সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ আগুনে নিহত হয় ৪৬ জন। এরপর আগুনের কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে ফায়ার সার্ভিস।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটির নানা স্থানে রাখা সিলিন্ডারের গ্যাস ভবনে জমে ছিল। যে কারণে শর্ট সার্কিটের আগুন খুব অল্প সময়ে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সিঁড়িতেও সিলিন্ডার রাখায় কেউ নামতে পারেনি। ফলে বেড়েছে হতাহতের সংখ্যা।
সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘কেটলির ওখান থেকে আগুনের স্পার্ক বা আগুন ধরেছে এবং সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের সংস্পর্শে এসেই, দুটো মিলে বড় আগুনে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকটা ফ্লোরের সিঁড়িতেই কোনো না কোনো সিলিন্ডার এবং অন্যান্য জিনিস দিয়ে অক্যুপাই করা ছিল।’
তদন্ত প্রতিবেদনে ভবনের অন্তত ১৩টি ত্রুটি উঠে এসেছে। এছাড়া অগ্নি দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সেফটি প্ল্যান ও রাজউকের নকশা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।
ভিডিও দেখুন:মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এ ভবনে কোনো ফায়ার সেফটি প্ল্যান যেহতু ছিল না, কার্যকর সনদও ছিল না। তারা এটার জন্য আবেদনও করেনি। মূল সুপারিশটা হচ্ছে অগ্নি নিরাপত্তা আইন ২০০৩ অনুসারে দ্রুত ফায়ার সেফটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করা এবং কার্যকরি করা।’
এর আগে এই ঘটনায় দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে রাজধানীর রুফটপ রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ করাসহ ৬টি সুপারিশ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সেই প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের জন্য গ্রিন কোজি ভবনের মালিক ও ভাড়াটেদের দায়ী করা হয়। রাজউক বা সরকারি অন্য কোনো সংস্থার গাফিলতির কথা সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।


বেইলি রোডে আগুন: নিজেদের দায় দেখছে না রাজউক 
