পুলিশ ক্যাম্পে গুলির পর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দূর্গম চরাঞ্চল গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের ডাকাত ও জলদস্যুরদের আস্তানায় যৌথ অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে যোগ দিয়েছেন র্যাব, পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে মেঘনা নদীর তীরবর্তী ওই দূর্গম চর এলাকায় অভিযান শুরু করেন তাঁরা। এখন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে পাঁচ-ছয়টি দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুরে সদ্য স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পসংলগ্ন মেঘনা নদীতে অস্ত্রের মহড়া শুরু করে ডাকাত দলের ৩০-৪০ জন সদস্য। এ সময় ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ডাকাত দলের উপস্থিতি বুঝতে পেরে নদীতে অভিযানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। পুলিশের প্রস্তুতির বিষয়টি আন্দাজ করতে পেরে ডাকাত দলের সদস্যরা চাঁদপুরের বেলতলীর দিকে গিয়ে আড়াল হয়ে যায়।
সোয়া ৫টার দিকে মাথায় হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি, ককটেল নিয়ে ক্যাম্পের দিকে ছুটে আসে ডাকাতদল। ক্যাম্পে থাকা পুলিশকে লক্ষ্য করে ঘটায় ককটেল বিস্ফোরণ। এরপর গুলি ছুড়তে থাকে ডাকাত দলের সদস্যরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টার সময় ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলে। একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ট্রলার নিয়ে মতলবের দিকে চলে যায় হামলাকারীরা। ঘটনায় পুলিশ অন্তত ২৪ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। ডাকাতদল করেছে শতাধিক।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই এলাকাটিতে নৌডাকাত ও জলদস্যুরা বেপরোয়া। এ কারণে সম্প্রতি গুয়াগাছিয়া এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হতে গতকাল পুলিশ ক্যাম্প টার্গেট করে গুলি চালায় ডাকাতদল। তাদের নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ অব্যাহত রেখেছে।



