মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী দুই ভাইকে বাস থেকে নামিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে অপহরণ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ লুটের ঘটনার তিন দিনের মাথায় সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের সন্ধ্যান পেয়েছে পুলিশ। ঘটনায় সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯৪ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালংকারসহ নগদ ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পুলিশের পোশাক, ওয়াকিটকি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস উদ্ধার হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ডাকাতচক্রের সদস্য ও মাইক্রোবাসচালক মো. জাকির হোসেন (৩৮), চক্রের মূল সমন্বয়কারী মো. আকতারুজ্জামান মুন্সী (৪৩), মো. রমজান (৩৫), মো. রমজান আলী (৪০) এবং দোকানমালিক মো. ইসমাইল হোসেন।
বুধবার রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এতে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আকতারুজ্জামান মুন্সী ছিলেন ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাব–ইন্সপেক্টর। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার রমজান আলী মানিকগঞ্জের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষক লীগের সভাপতি এবং আরেক রমজান ঢাকার শাহ আলীর মাই টিভির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। এ ছাড়া ইসমাইল হোসেন মিরপুর বড়বাগ এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার জানান, গত ৭ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকায় স্বর্ণ সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী দুই ভাই। যাত্রীবাহী বাসটি গজারিয়া এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের পোশাক পরা তিনজনসহ পাঁচজন তাদের নামে মাদক মামলা আছে বলে ভয় দেখিয়ে সকলের সামনে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। পরে চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে মারধর করে ১৪৫ ভরি ৮ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার, দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, এটিএম কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র লুট করে। ডাকাতরা এরপর ভুক্তভোগীদের গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ৮ ডিসেম্বর বিষয়টি পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম–এর নজরে এলে তিনি দ্রুত অভিযানের নির্দেশ দেন। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকিতে ডিবি পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয় এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে। পরদিন ৯ ডিসেম্বর গজারিয়া থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।
পরবর্তীতে ৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার পর রাজধানীর কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে মাইক্রোবাস চালক মো. জাকির হোসেনকে একটি ভবনের কক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণ এবং ৭ লাখ টাকা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের তৃতীয় তলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের মূল সমন্বয়কারী মো. আকতারুজ্জামান মুন্সীকে। তাঁর হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় ৪৩ ভরি ১ আনা স্বর্ণ, দুটি হ্যান্ডকাফ, দুটি ওয়াকিটকি, পুলিশের তিন সেট পোশাক এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস।
এরপর ডিবি পুলিশ ঢাকার মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রমজানকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২০ ভরি ৮ আনা স্বর্ণ, স্বর্ণ মাপার স্কেল, একটি টিভি চ্যানেলের আইডি কার্ড এবং স্বর্ণ বিক্রির ৫ লাখ টাকা। পরে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বকচর গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরেক সদস্য মো. রমজান আলীকে। তার হেফাজত থেকে পাওয়া যায় ১৩ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তার রমজানের তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর বড়বাগ এলাকার ‘ইসলাম জুয়েলার্স’ দোকান থেকে উদ্ধার করা হয় ডাকাতি করা স্বর্ণের আরও একটি অংশ ৬ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণ। এ ঘটনায় দোকানমালিক মো. ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।



