শরীয়তপুরে একটি রোগী বহন করা অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা যাওয়ার পথে দুই স্থানে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার কারণে চিকিৎসা না পেয়ে জমশেদ আলী ঢালী নামের এক বৃদ্ধ মারা যান। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদরের পালং মডেল থানায় মামলাটি করেন মৃত জমশেদের নাতি জুবায়ের হোসেন রুমান ঢালী। এ ঘটনায় মামলার আসামি সুমন খানকে শরীয়তপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন– স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খান (৩৮), চালক সজিব (২৮), পারভেজ (২৬) ও হান্নান (২৫)।
এর আগে বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সদস্যের সঙ্গে সভা করেন জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন। রোগীর অ্যাম্বুলেন্স আটক, বাড়তি ভাড়াসহ অন্যায় কাজ আর করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক পক্ষ।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স মালিক পক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন তারা ও তাদের চালকেরা আর অন্যায় কাজ করবে না। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের কাগজপত্র আছে কিনা তা যাচাই করতে বিআরটিএ এর ইন্সপেক্টরকে বলেছি। প্রতিদিন কতটি অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে যাতায়াত করছে তাঁর হিসেব সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে দেবেন। তাছাড়া আমরা মনিটরিং করবো তারা কোনো ধরনের কাজগুলো করছে।’
রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার অসুস্থ জমশেদ আলীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে দুপুরে ঢাকা যাওয়ার জন্য সাড়ে ৬ হাজার টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে স্বজনেরা। তবে রোগী নিয়ে আসার পর ৮ হাজার টাকা দাবি করেন চালক ও তাঁর সহযোগীরা। রাজি না হয়ে তারা অন্য অ্যাম্বুলেন্সে যেতে চাইলে তাদের যেতে না দেওয়ায় অটোরিকশায় রোগী নিয়ে শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রওনা হন। কিন্তু কিছু দুর যাওয়ার পরে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালক সুমন খান, সজিব খান, পারভেজ ও হান্নানসহ ৮/১০ জন ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে চালককে মারধর করেন ও চাবি নিয়ে নেন। দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার পর ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে পৌঁছলে চিকিৎসক জমশেদকে মৃত ঘোষণা করেন। সঠিক সময় চিকিৎসা না পেয়ে জমশেদ মারা যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, রোগী বহন করা অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা যাওয়ার পথে আটকে রাখার কারণে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর অন্য আসমিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।


অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখলেন স্থানীয় চালকেরা, ভেতরে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ
