নির্বাচনে নরসিংদীর পাঁচটি আসনেই বিএনপি প্রার্থী দিলেও নরসিংদী-২ আসনটি ঘিরে চলছে আলোচনা। এখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খানের প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির সারোয়ার তুষার। অন্যান্য আসনেও শক্ত লড়াইয়ে প্রস্তুত জামায়াতে ইসলামীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও বাড়ছে।
নরসিংদীর পাঁচটি আসনে মোট প্রার্থী ৪১ জন। সবগুলো আসনেই ভোটের লড়াইয়ে আছে বিএনপি। তাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় পার্টিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
নরসিংদী-২ আসনে ভোটের লড়াইয়ে আছেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন এনসিপির প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার তুষার।
সারোয়ার তুষার বলেন, ‘জনগণের ব্যাপক সাড়া দেখতে পাচ্ছি। এখানে আমাদের এই পলাশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে একটা ব্যাপক ঐক্য গড়ে উঠেছে। এদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, মানুষ তাদের আর ভোট দিতে চায় না।’
এদিকে নরসিংদী-৩ আসনে হুমকি-ধামকি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ বিএনপির প্রার্থী মনজুর এলাহী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ উল ইসলাম মৃধা বলেন, ‘যারাই একটু আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায়, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে।’
মনজুর এলাহী বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী হয়ে যদি শুধু স্বতন্ত্র কেন, প্রার্থী তো আরও আটজন আছে। এর পরেও যদি আমরা কাউন্টিংয়ে আসি, তাহলে ধানের শীষ পেয়ে লাভটা হলো কী? আমরা তো বিপুল ভোটে বিজয়ী হব, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এখানে কোনো প্রার্থীরই কারও বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ নেই।’
নরসিংদী সদরে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি তাঁদের।
নরসিংদী-১ আসনে দলটির প্রার্থী ইব্রাহিম ভূঁইয়া বলেন, ‘জনগণের ব্যাপক আগ্রহ। নারী, হিন্দু, নির্যাতিত ও ব্যবসায়ীরা কোথায় যাবে ভাই? দাঁড়িপাল্লা ছাড়া এদের কাছে বিকল্প আর কোনো পথ নেই।’
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে জানানো হচ্ছে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘আমরা চাইব, নির্বাচনী আচরণবিধি সব প্রার্থীই মেনে চলবেন। আমরা সবার সঙ্গেই আলোচনা করেছি। ছোটখাটো কোনো ভুলত্রুটি হলে আমরা প্রার্থীদের সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছি।’
জেলায় ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ভোটার। সংসদে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ে বুঝে-শুনেই সিদ্ধান্ত নিতে চান তাঁরা।



