মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দিনগত রাতে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া গ্রাম থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি স্বজনদের।
নিহত রাকিব (২৩) গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের মো. আলমগীর হোসেনের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে তারা বাউশিয়া ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রাকিব স্থানীয় একটি ফ্যান কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, রোববার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তিনজন যুবক একটি গাড়ি নিয়ে তাদের বাসায় এসে রাকিবকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা জানায়, নয়ন-পিয়াস গ্রুপের পিয়াসের সঙ্গে দেখা করানোর জন্য তাকে নেওয়া হচ্ছে এবং পরে আবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ সময় রাকিবের মা আপত্তি জানালেও তারা নিজেদের পূর্বপরিচিত দাবি করে তাকে নিয়ে যায়।
রাকিবের মা মোসাম্মৎ রুমি বেগম বলেন, ‘রাতভর অপেক্ষা করেও আমার ছেলে বাড়ি ফেরেনি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল, তখনই আমাদের সন্দেহ হয়।’
এদিকে, পরদিন অর্থাৎ আজ সোমবার ভোরে রাকিবের খোঁজে বের হলে স্বজনরা জানতে পারেন, গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বালুরচর এলাকায় নদীর পাড়ে এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৫টার দিকে সেখানে গিয়ে তারা রাকিবকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনি তখন মারধরের শিকার হওয়ার কথা জানান এবং পানি চান। কিছুক্ষণ পর তার কথা বলার শক্তি ক্ষীণ হয়ে আসে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের খালা রোজিনা বেগম দাবি করেন, ‘নয়ন-পিয়াস গ্রুপের লোকজন রাকিবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নদীর পাড়ে ফেলে গেছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিব একসময় নয়ন-পিয়াস গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে দেড়-দুই বছর আগে পরিবারসহ অন্যত্র চলে যান। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তাকে হত্যা করা হতে পারে; আবার কেউ বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার কারণেও তাকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পিয়াসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোলায়মান সুজন বলেন, ‘নিহতের শরীরে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।’



