ঈদের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার সকালেও আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে ছিল যাত্রীদের উপচে পরা ভিড়। টিকিট কেটেও দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি অনেকে। ঝুঁকি নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই শত শত যাত্রী উঠেছে ট্রেনের ছাদে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে কিছু জায়গায় ট্রেন ধীরে চলাচল করায় কয়েকটি ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে।
প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে টিকিট কেটেও অনেক যাত্রীকেই ঝুঁকি নিয়ে জানালা দিয়ে ট্রেনে প্রবেশ করতে হয়েছে। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে শত শত যাত্রী ট্রেনের ছাদে উঠেছেন। এরমধ্যে টানা বৃষ্টি ভোগান্তি বাড়িয়েছে কয়েক গুণ।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী জানান, ভোগান্তিতো দেখতেই পাচ্ছেন। আর দেখার কি আছে। এই যে গাড়িতে উঠতে পারছি না।
আরেক নারী যাত্রী বলেন, ট্রেনের টিকিট কাটার পরও আমরা ভালোভাবে সুষ্ঠুভাবে উঠতে পারছি না। অনেক কষ্ট করে ট্রেনে উঠার পর এখন যদি ওয়াশরুমে যেতে চাই, সেটাও যেতে পারব না।
প্রচণ্ড ভিড় সম্পর্কে আরেক তরুণ জানালেন, এয়ারপোর্ট স্টেশনে এখনও পৌঁছাইনি, তাতেই এই অবস্থা। সেখানে পৌঁছানোর পর হয়তো আরও বেশি যাত্রী উঠবে, জয়দেবপুরে উঠবে। শেষের দিনে এরকম একটা ভোগান্তি আসলে কষ্টকর।
নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেন প্রায় দুই থেকে তিন ঘন্টা দেরিতে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। দেরিতে ট্রেন আসা নিয়েও ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন তারা।
ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান এক যাত্রী বলেন, ট্রেন আসার কথা ছিল ১০টা ১৫তে। এই ট্রেন এখনও আসে নাই…এখনও কর্তৃপক্ষ কিছু জানাতে পারছে না যে, ট্রেন কখন আসবে, কখন প্ল্যাটফর্মে ঢুকবে, বা ট্রেনটা এখন কোথায় আছে এই খবরটাও আমরা জানতে পারছি না।
ভুক্তোভোগী আরেক যাত্রী জানান, ১০টা ১৫-এর ট্রেনের টাইম দেওয়া আছে ১১টা। কিন্তু ১১টাতেও ট্রেন আসবে কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
রেল মহাপরিচালক বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু জায়গায় ট্রেন ধীরে চলাচল করায় কয়েকটি ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, ‘এই লোডের কারণে আমরা যদি বেশি গতিতে চালাই সেক্ষেত্রে একটা দুর্ঘটনা হতে পারে। এছাড়া আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ। সব মিলিয়ে আমাদেরকে গতিটা একটু নিয়ন্ত্রণ করে যেতে হচ্ছে।’
যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে ওঠার বিষয়ে তিনি জানান, তাদেরকে ছাদ থেকে নামাতে গেলে শিডিউলে আরো বিপর্যয় ঘটত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন এদেরকে নামাতে গেলে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। অযথা ট্রেন বিলম্ব হবে। তার চেয়ে দ্রুত ট্রেনটাকে ছেড়ে দেওয়াই আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি।
উল্লেখ্য, ঈদের আগের দিন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সারাদিনে ছেড়ে যাবে মোট ৬৭টি ট্রেন।



