কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে একসময় ১৬০ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৪০ প্রজাতিতে। জলমহালের ইজারা প্রভাবশালীদের কাছে থাকায় সংকটে পড়েছেন জেলেরা। আয় কমে যাওয়ায় অন্য পেশায় ঝুঁকছেন অনেকেই।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার হাওর অধ্যুষিত গ্রাম চং নোয়াগাঁও। একসময় শতাধিক জেলে পরিবারের বসবাস ছিল।
এই জেলেপল্লীতে নেই আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য। হাওরে মাছ না থাকায় অনেকে ছেড়ে চলে গেছেন পৈত্রিক ভিটাও। টিকে আছে বিশ থেকে পঁচিশটি পরিবার। জেলেদের অভিযোগ, শুধু মাছ কমে যাওয়া নয়, ইজারা ব্যবস্থাও তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
হাওরাঞ্চলে একসময় অন্তত ১৬০ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৪০ প্রজাতিতে।
মাছ না থাকার প্রভাব পড়েছে ঐতিহ্যবাহী বালিখলা পাইকারি মাছের বাজারেও। আগে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হলেও এখন তা ৫০ লাখেরও কম।
কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হাওরের নদী-নালা খনন এবং পোনা নিধন রোধ করা গেলে মাছের প্রজাতি রক্ষা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি জেলেদেরও সচেতন হতে হবে।’
কিশোরগঞ্জের হাওর ও নদ-নদী থেকে প্রতি বছর ২৯ হাজার ৩২৪ টন মাছ পাওয়া যায়।



