রাজধানীর মিরপুরে চাঁদা আদায়, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, প্লট-ফ্ল্যাট দখল ও কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন সহোদরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন— মো. মেহেদী হাসান ওরফে জয়, সানজিম হাসান ও মো. অমিত হাসান।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনের বাবা আমির হোসেন এবং মা নাসিমা বেগম। তারা মিরপুরের ফোর স্টার গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মফিজুর রহমান মামুন, মশিউর রহমান ও জামিলুর রহমান ওরফে জামিলের ভাগ্নে। তাদের মা নাসিমা বেগম ওই তিন ব্যক্তির বড় বোন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার সাভারের নামাগেন্ডা এলাকায়। তাদের বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর পল্লবী থানার কালসী এলাকার ৫০ নম্বর বাড়ি, ‘ধ’ ব্লক।
পুলিশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান ওরফে জয় মিরপুরের ফোর স্টার গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মফিজুর রহমান মামুনের হয়ে চাঁদা আদায়, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন প্লট ও ফ্ল্যাট দখল, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত।
এ ছাড়া বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার মাধ্যমে আদায় করা চাঁদার টাকা বিদেশে পলাতক মফিজুর রহমান মামুন, মশিউর রহমান ও জামিলুর রহমান ওরফে জামিলের কাছে পাঠানো হতো বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সানজিম হাসানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো বলে জানা গেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানার ৪৮ নম্বর মামলা, যার তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলাটির জিআর নম্বর ৩৭৭, তারিখও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(১), ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিরপুর মডেল থানা পুলিশের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


