যশোরের অভয়নগরে পুলিশের নির্যাতনে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ) সার্কেল জাহিদুল ইসলাম।
তদন্ত কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নূর ই সিদ্দিকীকে প্রধান করা হয়েছে। এতে অপর সদস্য হলেন কোর্ট ইন্সপেক্টর রোকসানা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার রাতে নিয়ম মেনে আফরোজাকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁর কাছে ইয়াবা পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অভয়নগর থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পরের দিন সকালে আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন করেছি, সেখানে নির্যাতনের কোনো আলামত নেই। চিকিৎসকেরাও সেগুলো কিছু পায়নি। তাঁর রক্তচাপ বেশি ছিল। হাসপাতালে আনার পথে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন।’
নিহতের পরিবারের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, সে জন্য পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে।’
এদিকে যশোর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এ সপ্তাহেই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তখন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে আমরা ধারণা করছি, উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।’
এদিকে নিহত আফরোজার পরিবার আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার এ কথা জানিয়েছেন নিহতের ভাই নূর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হয়রানির আশঙ্কায় বর্তমানে আফরোজার পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র অবস্থান করছে। আমরা পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার চাই।’


যশোরে পুলিশের নির্যাতনে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ
