জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত মাগুরার রাজনৈতিক মাঠ। মাগুরা-১ আসনে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, মাগুরা-২ এ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে জামায়াত-বিএনপি। এবার প্রার্থীদের মুখে কেবল উন্নয়নের ফুলঝুরি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি খুঁজছেন আট লক্ষাধিক ভোটার।
দুটি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত মাগুরা জেলা। কৃষিপ্রধান এ জনপদে বইছে ভোটের হাওয়া। বড় কোনো শিল্পকারখানা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় বেকারত্বের হাহাকার এখানের নিত্যসঙ্গী। তাই এবার নির্বাচনে প্রার্থীদের মুখে কেবল উন্নয়নের ফুলঝুরি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি খুঁজছেন ভোটারেরা।
সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাগুরা-১ আসন। ৪ লাখ ২৫ হাজারের বেশি ভোটারের এ আসনে লড়ছেন সাত প্রার্থী। তবে মাঠের চিত্র বলছে, লড়াইটা মূলত বিএনপির মনোয়ার হোসেন খান এবং জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মতিনের মধ্যে। তরুণ ভোটারদের প্রাধান্য দেবেন এমন প্রার্থীকেই বেছে নিতে চান এ আসনের ভোটারেরা।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সবাই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দল যারা রয়েছে তাঁদের সকলের সঙ্গে আমাদের অনেক ভালো সম্পর্ক। আমি মনে করি না, মাগুরা জেলায় কোথাও কোনো ঝামেলা রয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের সময় জনগণের পক্ষ থেকে আমি বিপুল সাড়া পাচ্ছি। রাজনৈতিক যে অন্য প্রার্থীরা রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে আমাদের সহমর্মিতার সম্পর্ক রয়েছে।
এ আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একমাত্র নারী প্রার্থী প্রকৌশলী সম্পা বসু। বামপন্থী দল বাসদ থেকে মই প্রতীক নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন গ্রামের পর গ্রাম।
বাসদ প্রার্থী সম্পা বসু বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হই বা না হই বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কাজ করতে থাকব।’
এদিকে মাগুরা-২ আসনে লড়াইয়ের সমীকরণ আরও জটিল। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এবং জামায়াতের অধ্যাপক এমবি বাকেরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় বিভেদ আর নতুন ভোটারদের মেরুকরণ এ আসনের ফলাফল বদলে দিতে পারে যেকোনো সময়।
তরুণ ভোটারেরা বলছেন, তরুণেরা যোগ্য মনে করে যাঁকেই ভোট দেবে, তাঁরা চাইবে তিনি যেন তরুণদের নিয়ে কাজ করেন।
দুটি আসনে মোট ৩০১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মাগুরা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাগুরা জেলায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য মোট ৩০১টি কেন্দ্রের দিকে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে।’



