মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) একটি তুলা উৎপাদনকারী কারখানায় অতিরিক্ত সময় (ওভারটাইম) কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত মেশিনে পড়ে এক শ্রমিকের ডান হাত কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ইপিজেডের ‘গুয়াং ঝু হুয়া’ নামক কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শ্রমিকের নাম গোলাম (৩৫)। তিনি মোংলার চাঁদপাই এলাকার বাসিন্দা এবং ওই কারখানার একজন নিয়মিত শ্রমিক। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কারখানার সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, কোম্পানিটি পর্যাপ্ত শ্রমিক নিয়োগ না দিয়ে কম জনবল দিয়ে কাজ করাচ্ছিল। ফলে শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের সময় তুলার মেশিনে আগুন ধরে যায়। এ সময় আগুন নেভাতে গেলে ক্লান্তিবশত গোলামের ডান হাতটি মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায় এবং কেটে বিচ্ছিন্ন হয়।
শ্রমিকেরা আরও অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার না করে প্রায় এক ঘণ্টা পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সহকর্মীরা জানান, ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত গোলামকে উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে ৪টার দিকে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আজ বুধবার সকাল তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আজ রাতেই তার মূল অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে আহত গোলামের বাবা, মা, ভগ্নিপতি এবং ফ্যাক্টরির একজন প্রতিনিধি অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক কালাম মোহাম্মদ আবুল বশার জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য এরই মধ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবারের (১৮ জুন) মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইপিজেড এবং ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আহত শ্রমিকের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করছে। পাশাপাশি এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার জন্য আইন অনুযায়ী তাকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।’
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার পেছনে কারখানার কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক।



