দেশে খাবারের দোকান দিতে ১৩টির বেশি প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমতি নিতে হয়। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন। এখন থেকে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত ও বিক্রিতে তাদের অনুমতি লাগবে। নতুন বিধিমালায় এটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে শৃঙ্খলা তৈরি হবে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সামগ্রিকভাবে হয়রানি বাড়াবে।
উল্লেখ্য, খাবার বিক্রির প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ। এর মধ্যে রয়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, চা-স্টলও। তবে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি।
বর্তমানে দেশে খাবারের ব্যবসা করতে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, বেকারি, মিষ্টির দোকান, রেস্তোরাঁ, ফুড প্রসেসিং কারখানাসহ সবাইকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিতে হবে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নতুন নিয়মে হয়রানি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সুযোগ বাড়াবে। লাখ লাখ ব্যবসায়ীকে লাইসেন্স দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, 'এখানে যদি লাইসেন্স আরেকটা বেড়ে যায়, তাহলেই সমস্যা। আমরা বলেছিলাম, নিরাপদ খাদ্যের অধীনেই আমাদেরকে নেওয়া হোক। সরকারের পরিকল্পনা কি আমরা হয়তো জানি না। আমরা চাই, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনেই কাজ করতে। একটা অধিদপ্তর আমাদেরকে তদারকি করবেন।'
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, 'এটাতো ওভারল্যাপিং হয়ে গেছে। এই ওভারল্যাপিংয়ের কারণে যেটা হয়, বাংলাদেশে যে ব্যবসায়িক পরিবেশ- ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের (ব্যবসায়িক সুবিধার) কথা বলছি, সেটাকে আমরা আরও কঠিন করে দিচ্ছি। এটার ফলে আমাদের স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা করা, একজন ব্যবসায়ীর পক্ষে কঠিন হয়ে যাচ্ছে।'
কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষুদ্র-মাঝারি-বড় সব ব্যবসায়ীর তথ্য ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এরপর নবায়ন করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া হবে অনলাইনে।
এ প্রসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, এই ব্যবসায়ীদেরকে একটি তালিকার আওতায় আনছি। এটাই হচ্ছে রেজিস্ট্রেশন। যদিও আপাতত মনে হচ্ছে যে, এই রেজিস্ট্রেশনটা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠোর বা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। সত্যিকার অর্থে সেটা না। এর মাধ্যমে আমরা যেমন সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারব, তারপর আমরা ট্রেসেবিলিটিও (শনাক্তকরণ) নিশ্চিত করতে পারব।
একসাথে নিরাপদ খাদ্য ও হয়রানিমুক্ত ব্যবসা নিশ্চিত করাও বিরাট চ্যালেঞ্জ বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



