জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি নেতা মাহমুদুল হাসান মুক্তা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার সকালে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের কয়ড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মাহমুদুল হাসান মুক্তার চৌধুরী আদারভিটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সুমন মন্ডল (৪০) এবং একই এলাকার মাংস ব্যবসায়ী (কশাই) ফজলুল প্রামানিক।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উপজেলা মহিলা দলের সমাবেশ উপলক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মুক্তার চৌধুরীর বাড়িতে এক ভোজের আয়োজন করা হয়। সেই ভোজের জন্য ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তা চৌধুরী নির্দেশে যুবদল কর্মী সুমন মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি কর্মী জোড়খালী ইউনিয়নের দক্ষিণ খামার মাগুরা এলাকার মৃত ছৈয়দ আলী মন্ডলের ছেলে এফাজ মন্ডলের বাড়ি থেকে গত রাতে একটি গরু চুরি করে। পরে মাংস ব্যবসায়ী ফজলুল প্রামানিককে দিয়ে গরু জবাই করে রান্নার জন্য তৈরি করা হয়। সকালে এফাজ মন্ডল তাঁর গোয়াল ঘরে গরু দেখতে না পেয়ে এলাকায় খোঁজাখোঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে মাংস ব্যাবসায়ী ফজলুর কাছে গরু মাথা ও চামড়া দেখে গরু শনাক্ত করেন। পরে মাংস ব্যবসায়ী ফজলু বিএনপির নেতা মুক্তা চৌধুরী ও যুবদল কর্মী সুমন মন্ডল তাঁকে গরুর মাংস তৈরির জন্য নিয়ে যায় বলে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে যুবদল কর্মী সুমন ও মাংস ব্যবসায়ী ফজলুকে আটক করে। এ সময় গরুর চামড়া, মাথা ও কিছু মাংস উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা মুক্তা চৌধুরী ও যুবদল কর্মী সুমনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ্য করে ও অজ্ঞাত আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আদারভিটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মুক্তা চৌধুরীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ‘এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেল, গরু চুরি ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১২জনের নাম উল্লেখ্য করে এবং অজ্ঞাত আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে টিম কাজ করছে।



