চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পেট্রলপাম্পে ইঞ্জিন অয়েল নিতে গিয়ে বিএনপি নেতার হাতে পুলিশের এক কনস্টেবল মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রোববার দুপুরে গোমস্তাপুর উপজেলার খয়রাবাদ এলাকায় রায়হান ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রায়হান ওই কনস্টেবলকে মারধর করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। রায়হান গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেনের ছেলে। ফিলিং স্টেশনের সত্ত্বাধিকারী রায়হানের বাবা আশরাফ হোসেন।
মারধরের শিকার ওই কনস্টেবলের নাম শওকত হোসেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানায় কর্মরত। নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওসি বলেন, ‘নাচোল থানার মেরামতাধীন একটি গাড়ির জন্য ইঞ্জিন অয়েল নিতে রায়হান ফিলিং স্টেশনে যান শওকত হোসেন। পাম্প কর্মীদের কাছে নির্ধারিত স্লিপ জমা দিয়ে তিনি সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় রায়হান এসে তাকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু কনেস্টবল শওকত নিজের পরিচয় দিয়ে রায়হানকে বলেন ইঞ্জিন অয়েল দিতে। এক পর্যায়ে রায়হান রাগন্বিত হয়ে শওকতের গালে একটি থাপ্পড় মারেন। পরে তিনি ও তার সগযোগীরা লাঠি দিয়েও মারধর করেন।’
ওসি আরও বলেন, ‘শওকতের গাল ও শরীরে আঘাতজনিত কালশিটে দাগ রয়েছে। তাকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরে আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে। তবে এর আগেই রায়হান সেখান থেকে চলে যান। পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি আব্দুল্লাহ আল রায়হান ও তার বাবা আশরাফ হোসনকে। তবে রায়হানের ভাই গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গণি হামিদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। যেহেতু আমি ও আমার পরিবারের অন্য কেউ সেখানে ছিলাম না। আমরা ঘটনার খোঁজ নিচ্ছি, পরে আপনাদের বিস্তারিত জানানো হবে।’



