রংপুরের পীরগঞ্জে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ব্যবসায়ী আশরাফুল আলমকে হত্যা ও মরদেহ গুমের দায়ে আব্দুল খালেক মণ্ডল নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিপণ আদায়ের অপরাধে আরও ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডও দিয়েছেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রংপুরের সিনিয়র দায়রা জজ ফজলে খোদা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক মণ্ডল পীরগঞ্জ উপজেলার গৌরেশ্বরপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি নিহত আশরাফুল আলমের মাছের পুকুরে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ওয়ালটন শোরুমের মালিক আশরাফুল আলমকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন খালেক। এর পর থেকেই নিখোঁজ হন আশরাফুল। হত্যার পরের দিন আশরাফুলের স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে কল করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন খালেক। তবে র্যাবের সহায়তায় চালানো অভিযানে টাকা নিতে না এসে পরে ধরা পড়েন তিনি।
এর পর চতরা বাজারের বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্রের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয় আশরাফুলের অর্ধগলিত মরদেহ।
নিহতের স্ত্রী মোর্শেদা খাতুন ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে খালেক আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ ১০ বছর পর আজ রায় দেওয়া হলো।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর আফতাব উদ্দিন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম লাল।



