কাগজে-কলমে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে উপস্থিতি মাত্র দুই-তিনজনের। নিয়মিত বেতন পেলেও শিক্ষকদের সময় কাটে আড্ডা দিয়ে। কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বিদ্যানন্দ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের কারণে জায়গা বদলের পর থেকেই এই হাল। বিদ্যালয়টি আগের স্থানে পুনর্নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। এ বিষয়ে তদন্ত কোরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার।
রাজারহাটের নাজিমখান ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সরকারি নথিতে ১১০ জন, তবে ক্লাস করে মাত্র ২ থেকে ৩ জন। শিক্ষকের সংখ্যা আটজন।
২০১৭ সালে নদী ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন থেকে সরিয়ে নাজিমখান ইউনিয়নে নেওয়া হয়। এরপর থেকে কমেছে ছাত্রছাত্রী। এলাকাবাসী বলছেন, দূরত্ব বাড়ায় আরেকটি ইউনিয়নে গিয়ে ক্লাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর। এছাড়া চরাঞ্চলে ক্লাস নিতে যেতে চান না শিক্ষকরাও।
অভিযোগ আছে, বেশিরভাগ সময় বিদ্যালয়ে আসেন না প্রধান শিক্ষক লোকনাথ বর্মণ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও ছাত্র-ছাত্রী কমে যাওয়ার জন্য শিক্ষকদের গাফিলতিকে দায়ী করেন। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কোনো শিক্ষকই ।
রাজারহাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘জায়গার ব্যবস্থা আমি করে দিয়েছিলাম এবং ঘরও করে দিয়েছিলাম। শুধু শিক্ষকদের গাফিলতিতে এই অবস্থা। শিক্ষকরা চরে গিয়ে ক্লাস করতে চান না।’
প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি মাসে ব্যয় ৩ লাখ টাকা। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থার আশ্বাস জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি খোঁজ নেব এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। একদম ছাত্র থাকবে না কিন্তু শিক্ষক বেতন পাবে এমনটা হতে পারে না’
কাগজে-কলমেই শুধু নয়, বিদ্যালয়টিতে প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়াতে এবং চরাঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নের জন্য কার্যকর উদ্যোগের দাবি অভিভাবকদের।



