রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে চরমে পৌঁছেছে জনভোগান্তি। স্বল্পচাপের কারণে অনেক সিএনজি স্টেশন সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে। বুধবার রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকদের। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন চালকরা। এতে তাদের আয়ও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি ভুক্তভোগীদের।
সিএনজি চালক মোসলেহ উদ্দিন ২০ বছরের বেশি সময় ধরে রাজধানীতে যাত্রী পরিবহন করছেন। তেজগাঁওয়ে ফিলিং স্টেশনে তিনি গ্যাস নিতে আসেন বুধবার সকাল ৯ টায়। দুই ঘন্টা অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে পেরেছেন মাত্র ৫০ টাকার। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেয়ে সারাদিনের উপার্জন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার কথা জানান তিনি।
মোসলেহ উদ্দিন জানান, দুই ঘন্টা ধরে সিরিয়ালে বসে থেকে গ্যাস পেয়েছি মাত্র ৫০ টাকার। এখন এই ৫০ টাকার গ্যাস দিয়ে আমি কত টাকা ভাড়া পাব, আর মালিককেই বা কত টাকা দিব? মালিকতো ঠিকই বাকির খাতায় উঠিয়ে রাখবে।
গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক সিএনজি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। চালকরা জানান, গ্যাসের অভাবে ভাড়ার গাড়ি চালাতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। আয় কমে যাওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সংসার জীবনেও।
আরেক সিএনজি অটোচালক বলেন, গ্যাসের দাম বাড়বে বিধায় এই সংকট তৈরি করা হয়েছে। সিএনজি'র (গ্যাসের) দাম বাড়বে। এতে মাফ নাই, নইলে এই সমস্যাটা হতো না।'
সিএনজি স্টেশনের এক কর্মী জানান, 'অনেক ভোগান্তি। সাধারণত গ্যাসের চাপ থাকে ১৮০ থেকে ২১০। বর্তমানে চাপ আছে মাত্র ৭০-৮০।
আগামী সপ্তাহে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়বে, সরকারিভাবে এমন আশ্বাসের কথা বলছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতি। সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, 'আজকে পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে হয়তোবা যে টার্মিনালটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে সেটার একটা অংশ হয়তো মেরামত করে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।'
স্বাভাবিক সময়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ ২০০ পিএসআই থাকলেও এখন তা নেমে এসেছে ৭০ পিএসআইয়ের নিচে।



