গাইবান্ধায় নেশার টাকার জন্য ১৩ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে বিক্রির অভিযোগে বাবা হামিদুল মিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকেও। পরে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার বিকেলে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে মেয়ে ফাতেমাকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বাবা হামিদুল মিয়া। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। দুই দিন পর মোবাইল ফোনে স্ত্রী রুমানা আক্তারকে জানান, ১০ হাজার টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হবে। আর্থিক সংকটের কারণে রুমানা ওই টাকা দিতে পারেননি। পরে হামিদুল মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় রুমানা আদালতে মামলা করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে ডিবি পুলিশ।
রোববার গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ছোট ওমরপুর এলাকা থেকে বাসের হেলপার মজিদকে এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকা থেকে মোছা. মোরশেদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মদনেরপাড়া ছলের মোড় এলাকার সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করা নিয়ে স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন হামিদুল। সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতির অবনতি হলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রুমানা।
পরিবারের অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে নিয়ে যান হামিদুল। পরে তাকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে হামিদুল পুরো টাকা পাননি; তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার টাকা।
সন্তানকে ফিরে পেয়ে রুমানা বেগম বলেন, ‘আজ আমার কোল ভরে গেল। যারা আমার স্বামীর কাছ থেকে আমার সন্তানকে কিনে নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’
পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। আসামিরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করায় তাদের গ্রেপ্তারে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হবে।’



