মৌলভীবাজারের তিন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত নিয়ে দুশ্চিন্তায় বন্যা কবলিত মানুষেরা। এদিকে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতির আরও উন্নতি হলে পুরো তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
মৌলভীবাজারে উজানের ঢল ও অতি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বন্যা পরিস্থিতির এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পানি কমছে ধীর গতিতে। পানি কমার এমন ধীর গতিতে দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে নানাবিদ সংকট। জেলার কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এদিকে সদর ও রাজনগর উপজেলার কুশিয়ারা নদী পাড়ের অর্ধ লক্ষ মানুষের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্যা কবলিত এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গ্রামের ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘরবাড়ি ফেলে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন হাওর পাড়ের দরিদ্র মানুষেরা। তাদের চোখে-মুখে এখন শুধুই চিন্তার রেখা।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মী বিনতে সালাম বলছেন, মৌলভীবাজারে বন্যায় ৬০ হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বন্যা কমে আসলে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও রাজনগরসহ সাত উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



