তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বন্যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে এখনও ৬টি ওয়ার্ড। ড্রেন ভেসে সড়ক ও বাসা-বাড়িতে পানি ওঠায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পৌরবাসী।
কুলাউড়া পৌরসভার আহমদাবাদ এলাকার গৃহিণী লাকি বেগম। ঈদের দিন থেকে তাঁর বসত ঘরে হাঁটুজল। আসবাবপত্র রেখে সন্তানদের নিয়ে তাই ঘর ছাড়েন। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পোহাচ্ছেন এই দুর্ভোগ।
গৃহিণী লাকি বেগম বলেন, ‘ঈদের দিন সকালে উঠে আমরা একটু পানিও খেতে পারিনি, গোসল করতে পারিনি, নামাজও পড়তে পারিনি। এমন অবস্থা, বাচ্চা সামাল দেব, পানি সামাল দেবে নাকি ঘরের জিনিস সামাল দেব কিছু বুঝতে পারছি না। তাই ঘর ফেলে অন্যখানে গিয়ে অবস্থান নিতে হয়েছে।’
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা কুলাউড়ার ৯টি ওয়ার্ডের কমবেশি ৬টি ওয়ার্ডই গত ১৭ জুন থেকে বন্যা কবলিত। ডুবে গেছে উপজেলা পরিষদ ভবন, হাসপাতালসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ বন্যায় নাকাল পৌরবাসী। দূষিত পানি ছড়াচ্ছে রোগ-বালাই।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, বন্যার কারণে হেঁটে চলাফেরা করা যাচ্ছে না। নৌকা না পেলে কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না। নিত্যপণ্য কিনতে না পারায় খাওয়া দাওয়ার কষ্ট হচ্ছে।
আরেক ব্যক্তি বলেন, অতীতের এলাকায় এরকম ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এখানে বন্যা দেখা দিচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি এলাকাবাসী। এই জেলার বন্যা নিয়ে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন ভোগান্তিতে পড়ব।
চলমান বন্যায় পৌরসভার ১৮ কিলোমিটার সড়ক, ১২ কিলোমিটার ড্রেন, ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১ হাজার ঘরবাড়ি এখনও পানিতে তলিয়ে আছে।
কুলাউড়া পৌরসভা মেয়র সিপার উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব তহবিল থেকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এই এলাকায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে বন্যা। আমাদের কাছে প্রয়োজনের তুলনা বরাদ্দ কম। সরকারের কাছ থেকে যতটুকু পেয়েছি, পাশাপাশি পৌরসভার পক্ষ থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করেছি।’
এদিকে বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।



