দূষণ আর ভরাটে অস্তিত্ব সংকটের হুমকিতে আছে সিলেটের প্রাণ সুরমা নদী। প্রাণ প্রবাহ স্বাভাবিক করতে, নদীতীর দখলমুক্তসহ নানা উদ্যোগের কথা জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। আর সিটি করপোরেশন বলছে, নদী রক্ষায় দুপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সুরমা নদী, সিলেটের এক সময়ের প্রাণ ভ্রমর। কালের বিবর্তনে দখল আর দূষণে এখন মৃতপ্রায়। নদীর জায়গা দখল করে দুই তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। কোথাও দোকানঘর, কোথাও আছে বসতবাড়ি। তীর থেকে নদীর অনেকটা জুড়ে ফেলানো হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে পানি দূষিত এবং নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর বলেন, ‘সুরমার বর্তমান যে অবস্থা সেখান থেকে বলা যায়, এ বছরের বর্ষা মৌসুম আমাদের জন্য ভয়াবহ বিপদ বার্তা নিয়ে আসবে। সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নদী সংশ্লিষ্ট যে সংস্থাগুলো রয়েছে সকলের সম্মিলিত পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় নেই।’
সুরমাকে বাঁচাতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নদী পাড়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার জায়গায় অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশেন এবং বিভিন্ন পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করব।’
এদিকে নদীর দূষণ রোধে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কাজ করছে বলে জানান প্রশাসক। নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ নানা পদক্ষেপের কথা জানান তিনি।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘অন্ততপক্ষে বর্ষায় যেন শহরবাসী পানিবন্দি না হয় সেটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদী রক্ষায় এ ছাড়া আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি।’
দখল আর দূষণ বন্ধ না হলে সুরমা নদী হারাতে পারে তার অস্তিত্ব, এমনই শঙ্কা নগরবাসীর। তাই সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস থাকলেও দ্রুত দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখতে চান তাঁরা।



