২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে আমদানি পর্যায়ে প্রায় দেড়শ পণ্যে ১ থেকে ২ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর বসানোর পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে এ কর বাসানো হবে। কর বৃদ্ধির প্রস্তাবের সমালোচনা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৪ অনুযায়ী এইচএস কোডযুক্ত ১৮৯টি আমদানি পণ্যে কোনো উৎসে কর নেই। এছাড়া ভুটান থেকে আমদানি হওয়া ৩৩টি পণ্যেও নেই কোনো উৎসে কর।
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, তুলাসহ পোশাক শিল্পের কাঁচামাল, চিকিৎসা সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পণ্য, শিল্প খাতে ব্যবহৃত রাসায়নিকসহ বিভিন্ন খাতে বসবে অগ্রিম আয়কর। এসব আমদানি পণ্যে অগ্রিম আয়কর নিলে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ভোক্তার ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ভোক্তাদের সংগঠন ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সরকারকে তারা (ব্যবসায়ী) ১ থেকে ২ শতাংশ দেবে কিন্তু মানুষের বেলায়, যারা এটা কিনবে তাদের ওপর যখন এটা প্রয়োগ করবে তখন দেখা যাবে অনেকগুণ বেশি তারা চার্জ করবে। তাদের হাতে আপনি (সরকার) কেন অস্ত্র ছেড়ে দিলেন? এসব নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই নেতিবাচক একটা প্রভাব পড়বে।’
রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং ভ্যাট আদায়ে চলমান অনিয়ম ও ফাঁকি পুষিয়ে নিতে এ উদ্যোগ নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অগ্রিম আয়করের ক্ষেত্রে তা পরে সমন্বয়ের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভব।
এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন বলেন, ‘নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট তো হবেই। কারণ ইউজার অ্যান্ডে এসে একটা জিনিসের দাম তো বেড়ে যায়। ওরা যেটা বলছে যে এগুলো অ্যাডজাস্ট হয় পরে। আসলে কিন্তু সব অ্যাডজাস্ট হয় না। ব্যবসায়ীদের গাফিলতির কারণেও অনেক সময় অ্যাডজাস্ট করি না।’
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের অংশ হিসেবে শূন্যকর সুবিধা থেকে সরে আসতে এনবিআরের এমন উদ্যোগ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



