বিটিআরসির প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ইন্টারনেট ব্যবসায় ধস নামার শঙ্কায় রয়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন, নতুন কর আরোপের ফলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবার দাম ১১ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর। এ ছাড়া লাইসেন্স নবায়ন ফি বাড়লে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাবেন, যার ফলে এ খাতে ২৫ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
বর্তমানে টেলিকম খাত থেকে ২১.৪৫ শতাংশ রাজস্ব আয় করছে সরকার। বিটিআরসির প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে এ খাতে ৪০ শতাংশ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) জন্য ৫.৫ শতাংশ রাজস্ব শেয়ারিং এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের (এসওএফ) জন্য ১ শতাংশ রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন আইএসপিএবি বলছে, এটি কার্যকর হলে শহরাঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম বাড়বে ১১ থেকে ১৫ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে তা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। নবায়ন ফি বাড়ানো হলে বিনিয়োগকারীরা ব্যবসায় আগ্রহ হারাবেন, যার ফলে এই খাতের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ কাজ হারানোর শঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ‘আমাদের শহরগুলোতে, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম প্রায় ১১ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। দুর্গম বা রিমোট এলাকাগুলোতে ইন্টারনেটের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।’
নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ৫০০ টাকার ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। এতে সাধারণ গ্রাহকের ওপরই পড়বে বাড়তি খরচের বোঝা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের পড়াশোনা এখন পুরোটাই ইন্টারনেট-কেন্দ্রিক। অনলাইন ক্লাস থেকে শুরু করে সব কাজই ইন্টারনেটের মাধ্যমে করতে হয়। সব দিক দিয়ে এভাবে দাম বাড়লে আমাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর হবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা বিশ্বে যেখানে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেখানে দাম বৃদ্ধির এই বাড়তি বোঝা ডিজিটাল খাতের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘রাজস্ব আদায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা পুষিয়ে নিতে এই সেক্টরে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীদেরও দায় আছে, কারণ অনেকেই সঠিকভাবে ট্যাক্স দিতে চান না। তবে সার্বিকভাবে মোবাইল ও আইএসপি উভয় খাতের সেবামূল্য বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’
দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার।



