রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আভাস মিলেছে। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রান্নার ভোগান্তি এখন চরমে। কোথাও সারাদিন গ্যাস থাকছে না, আবার কোথাও গভীর রাতে রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে।
রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, খুব দ্রুত এই সংকট কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই।
রাজধানীর কুনিপাড়ার বাসিন্দা নাসিমা আক্তার দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তিনি জানান, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় সন্তানদের স্কুলের টিফিন বা স্বামীর অফিসের দুপুরের খাবার তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
গ্যাসের অভাবে অনেক এলাকায় এখন লাকড়ির চুলায় রান্না হচ্ছে। অন্যদিকে, চা দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রায় দ্বিগুণ দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
একজন চা দোকানি আক্ষেপ করে বলেন, ‘১ হাজার ২৫০ টাকার সিলিন্ডার এখন ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কাস্টমার ধরে রাখতে চায়ের দাম না বাড়িয়ে লসে ব্যবসা করছি।’
মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, রামপুরা ও মগবাজারসহ রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় একই চিত্র। তবে তিতাস কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, ২০২৬ সালেও গ্রাহক পর্যায়ে এই সমস্যা সমাধানের খুব একটা আশা নেই।
তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী সাইদুল হাসান বলেন, ‘২০২৬ সালেও আবাসিক গ্রাহকপ্রান্তে সমাধানের খুব একটা আশা আমি দেখছি না। তবে আমরা প্রিপেইড মিটার দেওয়ার কাজ দ্রুত করার চেষ্টা করছি। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে এটি সম্পন্ন হলে অন্তত গ্যাস না পেয়েও বিল দেওয়ার যে অসন্তোষ, তা দূর হবে।’
জ্বালানি সংকটের এই প্রভাবে বাজারে ইলেকট্রিক চুলার বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।



