দেশে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় এখনও বড় বাধা লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া, উচ্চ সুদের হার এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এসব সমস্যা কাটাতে কাঠামোগত সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা। সঙ্কট কাটাতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করারও তাগিদ দেন তারা।
ব্যবসায়িক পরিবেশ, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে রাজধানীর মতিঝিলে এই সেমিনারের আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন- এফবিসিসিআই। সেমিনারে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে একটি ব্যবসা শুরু করতে প্রায় আড়াইশ’র বেশি লাইসেন্স ও অনুমোদন নিতে হয়। সরকারি সেবা পেতে দিতে হয় ঘুষ। ফলে উদ্যোক্তারা মূল ব্যবসায় প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিতে পারেন না। উচ্চ হারে সুদ, জটিল ঋণ প্রক্রিয়া এবং কর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা তো আছেই। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এসএমই ও নতুন উদ্যোক্তারা।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের পরিচালক এম এস সিদ্দিকী বলেন, 'বাংলাদেশের সব ব্যবসায়ীরা কি শুধু প্রফিটই করে, লস করে না? তাহলে ৫ পার্সেন্ট, ১০ পার্সেন্ট অ্যাডভান্সড ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে দেব...এটাকে ফেরত দেওয়া হয় না। তাহলে আবার কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস (ব্যবসা করার খরচ) বেড়ে গেল।'
সেমিনারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম জানান, ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে দুদক আন্তরিক হলেও, তাঁদের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতি দমনে বেশি জোর দেওয়া হলেও, দুর্নীতি যেন না হয় সে বিষয়ে নজর দেওয়া হয় না।
দুদক সচিব বলেন, 'আমাদের প্রচলিত যে ব্যবস্থা আছে, এই ব্যবস্থার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। এটা আমরা স্বীকার করি এবং আমরা মানুষ হিসেবে যারা সরকারি ব্যবস্থাপনার মধ্যে কাজ করি, তাঁদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। সব কিছু যে ইচ্ছাকৃত এটা আমরা বলবো না। কিছুটা সিস্টেমের দোষ।'
টেকসই ব্যবসায়িক পরিবেশ পেতে আগামীতে রাজনৈতিক সরকারকে সঠিক পরিকল্পনার পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদরা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, 'কমপিটিটিভনেসের বড় জায়গাই হলো লিকেজ কমানো, কস্ট কমানো...এক্সট্রা বার্ডেন কমানো, টাইম কমানো। আমি বলে দিচ্ছি যে, এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়ে আমরা মোটেই কমপিটিটিভ হতে পারব না যদি এই ঘুষ, দুর্নীতি থাকে।'
সেমিনারে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আহ্বান ব্যবসায়ীদের।



