এলডিসি উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করলেও, উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনো প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ। সেই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামবৃদ্ধিসহ নানা কারণেই অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় এলডিসি উত্তরণ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। রোববার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন তিনি।
মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা—তিন সূচকেই দুই দফা যোগ্যতা প্রমাণ করে। ফলে ২০২১ সালেই জাতিসংঘ জানায়, ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাবে বাংলাদেশ।
এদিকে করোনা-পরবর্তী কয়েক বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার সাড়ে তিন ভাগ বেড়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৪ শতাংশে নেমেছে। বিনিয়োগ কমায় কর্মসংস্থানের সুযোগও কমেছে। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ছাড়িয়েছে ৩৫ শতাংশ। আর রাজস্ব আদায়ে গতি না আসায় সরকারের খরচ করার এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও কমেছে।
টেকসই এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময়ে অংশীজনরা বলেন, বাংলাদেশ ৯০ ভাগেরও বেশি পোশাক রপ্তানিতে বিশেষ শুল্কসুবিধা পায়। এলডিসি উত্তরণে যা বাড়তি প্রতিযোগিতায় পড়বে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'বিএনপি মেনিফেস্টো যেটা সময়মতো আমরা বাস্তবায়ন করছি। এগুলো সম্পাদন করলে সক্ষমতা তৈরির (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) যে কথাটা আছে, সেটা হয়ে যাবে। তখনই আমরা প্রস্তুত হব, তখনই আমরা (এলডিসি) উত্তরণের দিকে যাব। এই মুহূর্তে উত্তরণের দিকে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।'
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দামবৃদ্ধিসহ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'শুধু জ্বালানি সংকটতো নয়, সমস্ত কমোডিটি, খাদ্যপণ্য সবকিছুর (ওপর) প্রভাব পড়বে। টোটাল সাপ্লাই চেন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সব কিছুতে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই।'
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছাবে বলে আশা সরকারের।



