নতুন টাকার সংকটের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের লেনদেনে। বাজারে বাড়ছে ছেঁড়াফাটা নোটের ব্যবহার। আর এসব নোট পরিবর্তন করতে গিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। যদিও ব্যাংকাররা বলছেন, নিয়ম মেনেই দেয়া হচ্ছে সেবা। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, কোনো ব্যাংক গ্রাহক হয়রানি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দেশজুড়ে নতুন নোটের সংকটের মধ্যেই বেড়েছে ছেঁড়াফাটা টাকার প্রচলন। দৈনন্দিন প্রয়োজনে অনেকেই এসব নোটে লেনদেন করলেও, ব্যাংকে গিয়ে তা বদলানোর সময় ভোগান্তিতে পড়ছেন।
প্রতিটি ছেঁড়াফাটা নোট বদলাতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। তাঁদের অভিযোগ, সব ধরনের নোট ব্যাংকগুলো সহজে পরিবর্তন করছে না। নানা নিয়ম-নীতি, অসহযোগিতার কারনে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
তবে ব্যাংকাররা বলছেন, প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০টি ছেঁড়াফাটা নোট নেয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, ভোগান্তি কমাতে ব্যাংকগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি জোরদারের দাবি গ্রাহকদের।
ছেঁড়া-ফাঁটা নোট বদলানোর নিয়ম কী?
বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলে গ্রাহক সাথে সাথেই পুরো টাকা ফেরত পাবেন। সেটা যেকোনো ব্যাংকই দিতে বাধ্য।
তবে ৯০ শতাংশের কম অক্ষত থাকলে কিংবা অতিরিক্ত ময়লাযুক্ত থাকলে, সেসব নোটের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পাওয়া যাবে না - অর্থাৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে এই নোটের বিপরীতে টাকা দেবে না। এসব নোটকে দাবিযোগ্য নোট হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এসব নোটের ক্ষেত্রে গ্রাহক যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের যেকোনো শাখায় নোটটি জমা দেওয়ার পাশাপাশি আবেদন করবেন, সে আবেদন যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নোট পর্যালোচনা করে এর বিনিময় মূল্য দেওয়া যাবে কি না, গেলে কত শতাংশ দেওয়া যাবে, সেসব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহক যে ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করেছেন সে ব্যাংককে জানাবে।
আগুনে পোড়া নোটের বিনিময়মূল্য কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক দিতে পারবে না। এসব নোটের ক্ষেত্রে গ্রাহককে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখা অফিসে আবেদন করতে হবে।



