আগামী অর্থবছরের বাজেটের চাপ এবং উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে নতুন উৎস থেকে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এবার করের আওতা যেমন বাড়বে, তেমনি কর ছাড় থেকেও বেরিয়ে আসতে চায় সরকার। কর বাড়বে সম্পদ মালিকদের। উপজেলা পর্যন্ত বাড়বে ভ্যাটের আওতা। মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক ঋণের শর্ত মেটাতে করের আওতা ও আদায় বাড়ানো সরকারের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। ঘাটতি থাকলেও আগামী বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর আদায় করবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব। সবচেয়ে বেশি কর আদায় হবে স্থানীয় পর্যায়ে মূসক (মূল্য সংযোজন কর) এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে, যা মোট লক্ষ্যের ৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে, আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক কর আদায় হবে ২৬ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে আয়কর বিশ্লেষক আশরাফ হোসেন খান বলেন, 'সরকারি ব্যয়গুলো সরকারি উন্নয়নের কাজে যদি শতভাগ স্বচ্ছতার সহিত এবং জবাবদিহিতার সহিত ব্যয় করে তখন মানুষ আর প্রশ্ন তুলতে পারবে না যে, আমরা কেন কর দিব। সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে, সরকারি সকল প্রকার ব্যয়ের ক্ষেত্রে যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে মানুষ অবশ্যই কর দিবে। মানুষের মধ্যে কর দেওয়ার প্রবণতা অনেক বাড়বে।
করের আওতা বাড়াতে এনবিআর উপজেলা পর্যায়ের ছোট ব্যবসায়ীদেরও ভ্যাটের আওতায় আনছে। এ লক্ষ্যে ২০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনবে এনবিআর। ছোট ব্যবসায়ীদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার টোকেন ভ্যাট দিতে হতে পারে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, 'ঢাকার বাইরে কোনো একটা জেলা সদরে দোকান নিয় ব্যবসা করছে গত ৩০ বছর ধরে। কিন্তু খাতা টানতে গেলে বলে, "লস, আমি লসে আছি।" তাহলে সে ৩০ বছর ধরে ওখানে ব্যবসা কীভাবে করছে? অতএব আমাদেরও এই প্রবণতাটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যে, আমি ট্যাক্স দিব না, আমি ভ্যাট দিব না। এভাবে করলেতো চলবে না।'
আগামী বাজেট থেকে সম্পদ কর চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জমি ও স্থাবর সম্পদের মূল্য নির্ধারণে দলিল মূল্যের পরিবর্তে বাজারভিত্তিক বা মৌজামূল্য ব্যবহারেরও উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
করের আওতায় আসছে 'বাংলা টেসলা' হিসেবে পরিচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে তাদেরকে ৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। এছাড়া পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়ও এই কর নির্ধারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে হচ্ছে নিবন্ধনও।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলের ওপরও ২ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে।



