জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জনমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিজাত ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো হয়েছে।
ফলে, চাল, গম, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম কমবে। বিপরীতে মদ, সিগারেট, আমদানি করা বিলাসী পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের উপর উচ্চমূল্যের চাপ কমছে না, বরং বোঝা আরও ভারী হচ্ছে। মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। তাই জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগণকে স্বস্তি দিতে বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের ঘরে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
জীবনযাত্রার ব্যয়ে লাগাম টানতে বিভিন্ন পণ্যে করছাড় দেওয়া হয়েছে। আমদানি ও সরবরাহ ক্ষেত্রে ৫, ২ ও ১ শতাংশ উৎসে করের হার কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে, ধান, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে।
দেশীয় বীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনে ১০ বছরের জন্য কর মওকুফ করা হয়েছে। তাই, কমবে দেশে উৎপাদিত সরিষা ও অন্যান্য বীজের তেলের দাম।
জনগণের চিকিৎসা সেবার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ওষুধ তৈরির কাঁচামালের শুল্ক প্রত্যাহার ও রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। খরচ কমবে কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যানসারের ওষুধ, হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের। কমানো হচ্ছে মরদেহ সংরক্ষণের খরচও।
বাজেটে দেশে তৈরি টেলিভিশন, ফ্রিজ ও কম্পিউটারের দাম কমবে। এছাড়া বিদেশি কম্পিউটার প্রিন্টার, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটরের দামও কমানো হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ সহজলভ্য করতে ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন, বাস ও ট্রাক আমদানিতে উৎসে কর কমানো হয়েছে। এছাড়া দেশীয় ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদন শিল্পকেও কর রেয়াত সুবিধা দেয়া হয়েছে। স্বর্ণের ভরিতে আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করায় কমবে দাম।
কমানোর বিপরীতে এবার দাম বৃদ্ধির তালিকা ছোট। প্রতিবছরের মতো এবারও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপ হয়েছে।
বাজেটে দাম বাড়বে আমদানি করা পাঙ্গাস মাছের ফিলেট, হিমায়িত মাছ ও কাজু বাদামের। এম এস রডের দাম বাড়ানোয় বাড়ি তৈরির খরচ বাড়বে। এছাড়া, ওয়াশিং মেশিন, বাইসাইকেল, ডিটারজেন্ট, পলিয়েস্টার সুতাসহ গৃহস্থালি বেশ কিছু পণ্যের দামও বাড়ানো হয়েছে।



