জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়া সেই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলারের সামনে শূন্যরেখা থেকে বিজিবি তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মন। তার বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামে। প্রায় দুই মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ করছিলেন। বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নিয়ে থানায় এসে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি থেকে জানা গেছে, গত বুধবার ভোরে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলারের কাছে ওই বৃদ্ধকে দেখা যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসংলগ্ন ও বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছিলেন। পরে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরদিন সকালে তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ছোট ভাই ভবানি বর্মন বলেন, ‘দুই মাস ধরে ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। আমরা খুব চিন্তায় ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি, কিন্তু কোথাও সন্ধান মেলেনি। অবশেষে সীমান্তে আটকে থাকার ভিডিও দেখে তাকে শনাক্ত করতে পারি। ভাইকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি। যারা তাকে উদ্ধার ও আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘বৃদ্ধের স্বজনরা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ থানায় আসেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে এই সীমান্ত এলাকায় এসেছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও কিছু বলতে পারেননি।’



