ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতিকে শুধু শিল্প ও সংস্কৃতি নয়, একটি উৎপাদনশীল খাত হিসেবে দেখার দাবি শিল্প সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, কর ছাড়, কপিরাইট সুরক্ষা এবং শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত হতে পারে কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন চালিকাশক্তি।
শনিবার গবেষণা সংস্থা পিপিআরসির ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তারা। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের তাগিদ দেন বিশ্লেষকরা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৮০০ কোটি টাকার একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে সরকার। পিপিআরসির আলোচনায় সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই খাতকে শুধুমাত্র শিল্প বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখলে এর সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে না। বরং এটিকে অর্থনীতির একটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনশীল খাত হিসেবে বিবেচনা করার তাগিদ তাদের।
খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কপিরাইট সুরক্ষার দুর্বলতা, ডিজিটাল লেনদেনে জটিলতা এবং উচ্চ করহার সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে বড় বাধা। তাদের মতে, সরকারের একটি কেন্দ্রীয় কপিরাইট ও রয়্যালটি প্লাটফর্ম তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো গড়ে তোলা উচিৎ।
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, তৃতীয় কোনো দেশে পার্টনার তৈরি করে যারা পেপাল আছে এমন একটি দেশের মাধ্যমে পেমেন্টটা কালেক্ট করতে হয়। সেখানে তারা একটা বড় অংশ কেটে রেখে দেয়। আমাদের দেশের টাকা, আমাদের দেশের বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভে এসে জমা হবে, কিন্তু শুরুতেই একটা বড় অংশের টাকা আমাদেরকে অন্য দেশে দিয়ে আসতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন ধারণাগত স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা এবং কার্যকরী বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং।
পিপিআরসির নির্বাহী পরিচালক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অবকাঠামো দরকার। কিন্তু আমরা অবকাঠামো নিয়ে যত আলোচনা করি অবকাঠামোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তত আলোচনা করি না।
ক্রিয়েটিভ ইকোনমি উদ্যোগের মাধ্যমে জিডিপিতে সৃজনশীল খাতের অবদান বৃদ্ধি, পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।



